হাতি তাড়ানোর জন্য ফাঁদ তৈরি করতে যেয়ে বিদ্যুৎ পৃষ্ট হয়ে ব্যক্তি নিহত

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২২ , ৬:২৮ অপরাহ্ণ

ময়মনসিংহ ব্যুরো, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের সীমান্ত এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণ থেকে আমন ধান রক্ষার জন্য ফাঁদ (‘কারেন্ট শক’) তৈরির পর অসাবধানতা-বশত জাহাঙ্গীর আলম (৩৫) নামের এক ব্যক্তি নিজেই বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর হালুয়াঘাট উপজেলার ভূবনকুড়া ইউনিয়নের কড়ইতলী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাহাঙ্গীর আলম ওই এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে। নিহতের বড় ভাই জয়নাল আবেদিন ও জুলহাস মিয়া বলেন, বন্যহাতির পাল এসে আমাদের রোপণ-কৃত আমন ধানের ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। বন্যহাতির আক্রমণ থেকে যতটুকু ফসল অবশিষ্ট আছে তা রক্ষায় আমার ভাই জাহাঙ্গীর গত দু’দিন ধরে জেনারেটর এর মাধ্যমে তার সংযোগ দিয়ে সীমান্ত এলাকায় কারেন্ট শক-এর ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে অসাবধানতা-বশত তিনি নিজেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় ভূবনকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম সুরুজ মিয়া বলেন, ‘হাতি তাড়ানোর জন্য জেনারেটরের মাধ্যমে তার দিয়ে সীমন্ত এলাকায় কারেন্ট শক-এর ব্যবস্থা করার সময় বিদ্যুতর তারে জড়িয়ে জাহাঙ্গীরের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এর আগেও এই গ্রামে গত ১৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বন্যহাতির আক্রমণ থেকে আবাদি জমির ফসল রক্ষা করতে গিয়ে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধ নওশের আলীর মৃত্যু হয়। আমরা সরকারের কাছে হাতির আক্রমণ থেকে কৃষকদের ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি রক্ষায় স্থায়ী একটি ব্যবস্থার দাবি জানাই। সেইসাথে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ারও দাবি জানাচ্ছি।’ হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহিনুজ্জামান খান বলেন, আমরা সীমান্ত এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানান তিনি।