ময়মনসিংহে ২৮ দিন আগে উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত পরিচয় লাশ সনাক্ত

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২ , ৬:০৪ অপরাহ্ণ

মোঃ আজিজুর রহমান ভূঁঞা বাবুল, ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বওলা ইউনিয়নের বওলা পূর্বপাড়া গ্রামের একটি কবরস্থান সংলগ্ন স্থান থেকে গত ২৮ দিন আগে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দী অর্ধগলিত লাশ খুলনা মহানগরীর মহেশ্বরপাশার উত্তর বণিকপাড়ার রহিমা বেগমের (৫২) বলে দাবি করেছেন নিহতের ছোট মেয়ে মরিয়ম মান্নান। শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে খুলনা থেকে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানায় এসে লাশের সাথে উদ্ধারকৃত কাপড় চোপড় দেখে তিনি এ দাবি করেন। ফুলপুর থানায় তার মায়ের লাশের আলামত শনাক্তের সময় তার বোন মনি, মাহফুজা আক্তার, আদরী আক্তার, ভাবী, চাচাতো ভাই রুম্মান হোসেন ও মরিয়মের অল্প বয়সী একজন ভাইয়ের ছেলে থানায় উপস্থিত ছিলেন। ফুলপুর থানায় উপস্থিত হয়ে গত ২৮ দিন ধরে নিখোঁজ রহিমা বেগমের (৫৫) কাপড় চোপড় দেখে মেয়ে মরিয়ম মান্নান বলেন, ‘এটাই আমার মায়ের লাশ। পায়জামাটা আমার মায়ের। তবে জামাটা তাদের বাসার ভাড়াটে মহিলার বলে জানান তিনি।’ তবে পুলিশ বলছেন, ডিএনএ টেস্ট ছাড়া সঠিকভাবে লাশ চূড়ান্ত শনাক্ত করা সম্ভব নয়। ডিএনএ টেস্টসহ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১০ সেপ্টেম্বর সকালে ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার বওলা এলাকায় একটি কবরস্থানের ঝোপ থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর বস্তাবন্দী অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ওই লাশের পোশাক ও আলামত সম্পর্কে থানায় জানতে চান মরিয়ম। পোশাক ও উদ্ধার হওয়া আলামতের কথা শুনে নিজের মায়ের লাশ বলে দাবি করেন মরিয়ম। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন মরিয়ম। রাত পৌনে ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে মায়ের লাশ পাওয়ার বিষয়ে দেওয়া পোস্টে মরিয়ম লেখেন ‘আমার মায়ের লাশ পেয়েছি আমি এই মাত্র।’ রাত ১২টা ৪ মিনিটে আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, আর কারও কাছে আমি যাব না। কাউকে বলব না আমার মা কোথায়! কাউকে বলবো না আমাকে একটু সহযোগিতা করুন। কাউকে বলবো না আমার মাকে একটু খুঁজে দেবেন। কাউকে আর বিরক্ত করবো না। আমি আমার মাকে পেয়ে গেছি।’ প্রসঙ্গত, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে খুলনা মহানগরীর মহেশ্বরপাশার উত্তর বণিকপাড়ার নিজ বাসা থেকে টিউবওয়েলে পানি আনতে নিয়ে নিখোঁজ হন রহিমা বেগম। এরপর আর ঘরে ফেরেননি তিনি। স্বামী ও ভাড়াটিয়ারা নলকূপের পাশে ঝোপঝাড়ে তার ব্যবহৃত ওড়না, স্যান্ডেল ও বালতি দেখতে পান। সেই রাতে মাকে খুঁজতে আত্মীয়স্বজন, আশপাশসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেন সন্তানরা। রহিমার ছয় সন্তান কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কখনো মাইকিং, কখনো আত্মীয়স্বজনদের দ্বারস্থ হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনের পর মাকে খুঁজে পেতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দৌলতপুর থানায় মামলাও দায়ের করেন। মামলার বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পিবিআই তদন্তের ভার পায়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর খুলনার দৌলতপুর থানা থেকে মামলাটি পিবিআইয়ে স্থানান্তর করা হয়। ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এ ব্যাপারে বলেন, এটাই যে মরিয়মের মায়ের লাশ তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। ডিএনএ টেস্টের পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।। ডিএনএ টেস্টসহ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।