জাঁকজমক আয়োজনে ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত : জানুয়ারি ৪, ২০২৩ , ৪:৪৭ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসী, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: উপমহাদেশের বৃহৎ ও প্রাচীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি এ সংগঠনটির জন্ম হয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে সারা দেশের ন্যায় ঝিনাইদহে এ উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে বুধবার (০৪জানুয়ারি) সকাল এগারোটায় ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সজিব আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আল ইমরান এর নেতৃত্বে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রেরণা ৭১এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এর আগে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় সরকারি কেসি কলেজ এর সামনে থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। আনন্দ শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পোস্ট অফিস মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মধ্যদিয়ে শেষ হয়।সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক মৎস্য প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই এমপি এবং প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু।এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রনেতা নজরুল ইসলাম,এম.আব্দুল হাকিম আহমেদ,আহাদুর রহমান খোকন, আসাদুজ্জামান আসাদ,শফিকুল ইসলাম শিমুল,মোঃ খায়রুল ইসলাম,শাকিল আহম্মেদ প্রমুখ।সমাবেশ শেষে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। আনন্দঘন ও উৎসবমুখর এই কেককাটা অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পথ-সমাবেশে প্রধান অতিথি আব্দুল হাই এমপি তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রলীগের যাত্রা শুরু হয়। ঐদিন তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিবের প্রেরণা ও পৃষ্ঠপোষকতায় একঝাঁক মেধাবী তরুণের উদ্যোগে সেদিন যাত্রা শুরু করে ছাত্রলীগ। আজ ৭৫ বছরে ছাত্রলীগের ইতিহাসে অর্জন হচ্ছে জাতির ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়ন, স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনা, গণতন্ত্র প্রগতির সংগ্রামকে বাস্তবে রূপদানের ইতিহাস। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সংগ্রামে ছাত্রলীগ নেতৃত্ব দিয়েছে এবং চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৪৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ ঘটে, যা পরে আওয়ামী লীগ নাম ধারণ করে এ দেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়। এ প্রেক্ষাপটে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বাঙালি জাতির ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধান বক্তা হিসেবে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু বলেন,প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ৫৮’র আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ৬দফার পক্ষে গণ-অংশগ্রহণের মাধ্যমে মুক্তির সনদ হিসেবে এই দাবিকে প্রতিষ্ঠা করে।৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনা, ৭০’র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়লাভ এবং ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পরাধীন বাংলায় লাল সবুজের পতাকার বিজয় ছিনিয়ে আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যুদ্ধ-বিধ্বংস বাংলাদেশ পুন:গঠনে অংশ নেয় ছাত্রলীগ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে রাজপথে নেতৃত্ব দেয় সংগঠনটি। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুন:প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধারে যে আন্দোলনের সূচনা করেন সে আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল ছাত্রলীগ। ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনন্য ভূমিকা পালন করে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগ।