বেগমগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য: জনমনে আতঙ্ক

প্রকাশিত : জুন ১৫, ২০২২ , ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন:নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের আশ্রয় প্রশ্রয়ে গড়ে উঠা কিশোর গ্যাং-এর দৌরাত্ম্য বেড়েছে, অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। তাদের অত্যাচার নির্যাতনে জনমনে বিরাজ করছে আতঙ্ক। প্রশাসন মাঝে মধ্যে এদের বিরুদ্ধে একশনে গেলেও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে তারা বরাবরই থাকে বহাল তবিয়তে। ফলে কিশোর গ্যাং-এর সদস্যরা ঘটাচ্ছে সমাজে নানা রকম বিশৃঙ্খলা। এসব কিশোর গ্যাং-এর সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছে শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী। বিভিন্ন সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে বেগমগঞ্জ উপজেলার পূর্বাঞ্চলের হাজীপুর, রসুলপুর, কুতুবপুর, দূর্গাপুর, দক্ষিণাঞ্চলের একলাশপুর, পশ্চিমাঞ্চলের আলাইয়ারপুর, আমানউল্যাহপুর, রাজগঞ্জ, ছয়ানীতে মহল্লা ভিত্তিক গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। কিশোর গ্যাং-এর সদস্যদের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। এলাকার প্রভাবশালীরা কিশোর গ্যাং সৃষ্টি করে তাদেরকে দিয়ে বিভিন্ন প্রকার অপরাধমূলক কাজ করিয়ে থাকে। খুন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ইভটিজিং, নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা নিত্য ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অত্যাচার নীরবে সব সহ্য করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সম্প্রতি বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মালেকার বাপের দোকান এলাকায় কিশোর গ্যাং এর প্রধান রিমন বাহিনীর গুলিতে বাবার কোলে শিশু তাসফিয়া ও চৌমুহনীতে প্রকাশ্য দিবালোকে ব্যবসায়ী আইমনকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা কান্ডের পর আলোচনায় আসে কিশোর গ্যাং এর বিষয়টি। প্রভাবশালীদের সেলটারে থাকা চৌমুহনী শহরের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং এর একাধিক দল-উপদল। এলাকার কিশোরদের এই গ্যাং এর সদস্য হতে চাপ দেয়া হয়। অনেকে মনের অজান্তেও তাদের সদস্য হয়ে যায়। এলাকায় ছিনতাই, নারী ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, মারধর, দখলবাজি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ করাই তাদের নিত্য কাজ। এই গ্যাং এর সদস্যরা সবাই দেশীয় অস্ত্র এমনকি কেউ কেউ আগ্নেয়াস্ত্রেও সজ্জিত। কোন সদস্য কোথায়ও বিপদে পড়লে প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে তারা বিপদ মুক্ত হয়। ফলে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং-এর সন্ত্রাসীরা। এলাকায় কেউ নতুন বাড়ি করলে, বিদেশ থেকে আসলে, জায়গা জমি ক্রয়-বিক্রয় করলে, এমনকি বিয়ে শাদিতে তাদের চাঁদা দিতে হয়। উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আজিম মির্জা জানান, কিশোর গ্যাং-এর দৌরাত্ম আমার এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে আছে। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু কোন লাভ হয়নি। বরং অভিভাবকরা কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর পরেই আমার এলাকায় শিশু তাসফিয়াকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। তাসফিয়ার অপরাধ ছিলো তার পিতা কিশোর গ্যাং এর বিরুদ্ধে ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলো।
একই ভাবে চৌমুহনীতে এই কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা ব্যবসায়ী আইমনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ব্যাপারে চৌমুহনী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জানান, আমরা উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত। যে ভাবে কিশোর গ্যাং-এ অত্যাচার বাড়ছে, সাধারণ মানুষ বাড়ি ঘরে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি আমার এলাকার ব্যবসায়ী আইমনকে প্রকাশে কুপিয়ে হত্যা করে কিশোর গ্যাং-এর সদস্যরা। তারা সবাই প্রভাবশালী মহলের সেলটারে থাকে। ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কায় আছে আইমনের পরিবারের সদস্যরা। কিশোর গ্যাং কালচারের কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা বেড়েছে, বেড়েছে সামাাজিক অবক্ষয়, নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে জনজীবন। তাই এখনি কিশোর গ্যাং নির্মূলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকার জনপ্রতিনিধি, সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ। এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা তাদের সম্পর্কে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। অপরাধী যেই হোক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।