গৌরীপুরের প্রতারক ৪ ভাইয়ের খপ্পরে চাকরি প্রার্থী

প্রকাশিত : জুলাই ৩, ২০২২ , ৭:২৪ অপরাহ্ণ

মোঃ আজিজুর রহমান ভূঁঞা বাবুল, ব্যুরো প্রধান, ময়মনসিংহ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ‘সাপ্তাহিক চাকরির খবর পত্রিকায় ‘প্রতিবন্ধী বিষয়ক সংস্থা’য় চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে গত ৪ মে নিয়ম অনুযায়ী জীবন বৃত্তান্ত পাঠান চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার আবুল কাশেমের ছেলে ভুক্তভোগী চাকরি প্রার্থী কাউছার হামিদ। এর মধ্যে গত ২৮ জুন তার(কাউছার হামিদ) মোবাইল নম্বরে কল আসে। সাবিকুর রহমান ওরফে শফিক মাস্টার নামে একজন জানান, আমি প্রাথমিকভাবে সিলেক্ট হয়েছি। মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে। আর মৌখিক পরীক্ষার দিতে ময়মনসিংহ আসার পরই বুঝতে পারেন তিনি প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন। এরপর কাটে বিভীষিকাময় ২৪ ঘণ্টা বা একদিন। অমানবিক নির্যাতনের পাশাপাশি তার কাছ থেকে প্রতারকরা হাতিয়ে নেয় এক লাখ টাকা। কৌশলে তাদের কাছ থেকে কোনক্রমে প্রাণ নিয়ে ফিরে পুলিশের সহযোগিতা চান ভুক্তভোগী কাউছার হামিদ। পরে এ ব্যাপারে গত শুক্রবার (১ জুলাই) কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই চার প্রতারককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সহোদর চারভাই হলেন, গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের সুতিরপাড়া গ্রামের মুন্সীবাড়ী এলাকার মৃত সেকান্দর আলীর ছেলে মোঃ সাবিকুর রহমান ওরফে শফিক মাস্টার (৩৪), শাহজাহান মিয়া (৩৫), শামীম হাসান (২৬) ও সাইদুল ইসলাম (২৪)। পরে গ্রেফতারকৃতদের শনিবার (২ জুলাই) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানায়। ভুক্তভোগী চাকরি প্রার্থী কাউছার হামিদ বলেন, ‘আমার চাকরির খুব প্রয়োজন হওয়ায় ‘সাপ্তাহিক চাকরির খবর পত্রিকায় প্রতিবন্ধী বিষয়ক সংস্থায় চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে গত ৪ মে নিয়ম অনুযায়ী জীবন বৃত্তান্ত পাঠানোর পর ২৮ জুন আমার মোবাইল নম্বরে কল আসে। সাবিকুর রহমান ওরফে শফিক মাস্টার নামে একজন আমাকে জানান, আমি প্রাথমিকভাবে সিলেক্ট হয়েছি। চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহ এসে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ পেতে হবে। তার কথা মতো ২৯ জুন বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর শম্ভুগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত অফিসের সামনে আসি। তখন শফিক ও তার ভাই শাহজাহান আমাকে মোটরসাইকেলে তুলে গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের সুতিরপাড়া গ্রামে নিয়ে যান। রাতে সেখানে একটি ঘরে নিয়ে যাওয়ার পরই মূলত বুঝতে পারি আমি প্রতারকের খপ্পরে পড়েছি। সেখানে তারা আমাকে আটকে রেখে প্রথমে কিডনি খুলে রাখার হুমকি দেন। এরপর ৫ লাখ টাকা দাবি করে একটি অন্ধকার কক্ষে রাতভর নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ৩ লাখ টাকা দিতে রাজি হই। পরদিন বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বিকাশের মাধ্যমে বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকা আনিয়ে দেই। ওই দিন রাত ১১টার দিকে আমাকে ছেড়ে দেন তারা। ছাড়া পেয়ে আমি বাড়ি ফিরে না গিয়ে থানায় এসে ঘটনার বিস্তারিত জানালে পুলিশ আমার কাছ থেকে মামলা নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রতারক চারভাইকে গ্রেফতার করে।’ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘এ ব্যাপারে থানায় প্রতারণার মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রতারক চারভাইকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (২ জুলাই) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’