সিন্ডিকেট চক্রের কবল থেকে পারকুল চা বাগানে অবৈধ দখলকৃত ভূমি উদ্ধার

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২২ , ৯:৫২ অপরাহ্ণ

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন:মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার আওতাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড এর মালিকানাধীন পারকুল চা-বাগানের ২২নং চা সেকশনের সংলগ্ন সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ভাবে দখলকৃত প্রায় ৭ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকার চেয়েও বেশী। চা বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় তিনি বাগানে যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই এ ভূমি উদ্ধার করেন। বাগানের ব্যবস্থাপক দেওয়ান বাহাউদ্দিন লিটন এর লিখিত জিডি সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার আওতাধীন পারকুল চা-বাগানের ২২নং চা সেকশনের সংলগ্ন প্রায় ৭ একর জায়গা দীর্ঘদিন যাবত পূর্ব রাণীগাঁও গ্রামের সবুজ মিয়া, শফিক আলী ও কুখ্যাত ডাকাত ও সন্ত্রাসী নজির বাহিনীর সদস্যরা অবৈধ ভাবে দখল করে নেয় এবং বিভিন্ন রকমের চারা রোপণ করে ও ২টি ঘর নির্মাণ করে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালাতে থাকে। সিন্ডিকেট চক্রের অবৈধ দখল থেকে সরকারী জায়গা উদ্ধার করতে গিয়ে হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। বর্তমান বাগানের ব্যবস্থাপক যোগদানের পর শুরু করেন জায়গা উদ্ধার এবং দখলমুক্ত করণের তৎপরতা। জানা গেছে- সারাদেশে চা বাগানের সংখ্যার দিক থেকে হবিগঞ্জের অবস্থান দ্বিতীয়। এ জেলায় উৎপাদিত চা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ বছর হবিগঞ্জে চায়ের সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে। এ বছর নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় চায়ের ফলন ভাল হয়েছে। সময়মত গাছ থেকে এসব কুঁড়ি সংগ্রহ করে মেশিনে প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেন শ্রমিকরা। বৃষ্টি, অনুকূল আবহাওয়া, নতুন চা এলাকা স¤প্রসারণ, ক্লোন চা গাছের ব্যবহার বৃদ্ধি ও চা বোর্ডের নজরদারীর কারণে এ মৌসুমে চা শিল্পের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চা উৎপাদিত হয়েছে। উল্লেখ্য- তিনি কুলাউড়া “বিজয়া চা বাগানে” দায়িত্বপালন সময়ে সিন্ডিকেট চক্রের কবল থেকে প্রায় ৫০ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। একই ভাবে “প্রেমনগর চা বাগানের” কুরমা, তেলিয়াপাড়া, জগদিসপুর, বেশির ভাগ ভূমি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল ছিল। তিনি যোগদানের পর শুরু করেন জায়গা উদ্ধার এবং দখলমুক্ত করণের তৎপরতা। সরকারী জায়গা উদ্বার করতে গিয়ে স্থানীয় সিন্ডিকেট চক্রের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। বর্তমানেও হুমকি-দামকি অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া এইসব ভূমিতে পুনরায় চা লাগানো হবে। এর ফলে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হবে। চা বাগানে নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য প্রহরীদের সমন্বয়ে তদারকিও চলছে। বাগানে এসেছে শৃঙ্খলা। কমছে চুরি ও অব্যবস্থাপনা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় লোকজন বলেন- জবর-দখলকারীরা ডাকাত ও সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য। এসব চক্রের হুমকি এখনও অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাগান ব্যবস্থাপক চুনারুঘাট থানায় জিডি ( নং- ১০৪, তারিখ ঃ ০২/০৯/২০২২ইং) করেছেন। এইভাবে চা বাগানের জমি উদ্ধার করে চা গাছ রোপণ করিলে সরকার রাজস্ব পাবে এবং কোম্পানিও লাভবান হবে।