নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে শিক্ষকদের পাঁচদিনের প্রশিক্ষণ শুরু

প্রকাশিত : জানুয়ারি ৬, ২০২৩ , ৩:০৬ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসী, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের মহা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে ঝিনাইদহে নতুন কারিকুলাম ২০২৩ বাস্তবায়নে কাঞ্চ্ননগর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে শিক্ষকদের পাঁচদিনের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কাঞ্চ্ননগর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন সরকারি কেসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অশোক কুমার মৌলিক। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মোঃ মনিরুল ইসলাম,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান, কাঞ্চ্ননগর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রদীপ কুমার বিশ্বাস, শিক্ষক সমিতির নেতা মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ ও ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক, ঝিনাইদহ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামীমুল ইসলাম শামীম প্রমুখ। ১০৬০জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে সারাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ এর আলোকে প্রণীত শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের সাহায্যে শিখন কার্যক্রম চালু হতে চলেছে। জেলা পর্যায়ের শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের মাত্র পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়েই আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছে শিক্ষা প্রশাসন। ‘শিক্ষাক্রম বিস্তরণ প্রশিক্ষণ’ নামের ওই কর্মসূচিতে সারাদেশের প্রায় সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এর আগে সারাদেশের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষককে ৬ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘মাস্টার ট্রেইনার’ করা হয়েছে। তারাই এখন জেলায় জেলায় শিক্ষকদের নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন। প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ প্রফেসর অশোক কুমার মৌলিক বলেছেন, জন-বান্ধব শিক্ষা বান্ধব সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যেতে চান। পরবর্তী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষে এবং কারিকুলাম পরিবর্তন হওয়ায় এই প্রশিক্ষণ হচ্ছে। কারিকুলামকে শিক্ষার সংবিধান বলা হয়। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার সবকিছুই আছে। সুন্দর কাঠামোর উপর নির্ভর করে শিক্ষার মানোন্নয়ন। নতুন শিক্ষা পদ্ধতিতে ‘হাতে-কলমে’ শিক্ষার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। নতুন এই শিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে হবে না, কোচিংয়ে যেতে হবে না। এমনকি গৃহশিক্ষকেরও দরকার পড়বে না। জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মনিরুল ইসলাম বলেন, মূল্যায়ন ও পড়াশোনার ধরনে বড় পরিবর্তন এনে নতুন শিক্ষাক্রম এ বছর থেকে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি ও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে, তাহলে আগামী পাঁচ বছর পর থেকে একটু পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যাবে।