বর্তমান বাংলাদেশ বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ও সম্ভাবনাময়

প্রকাশিত : মে ২৫, ২০২২ , ৭:০২ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে । বর্তমান বাংলাদেশ বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ও সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশ সরকারও এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। দেশি ও বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য একশোর অধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানাবে। বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাণিসম্পদ খাতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সহযোগিতার ৫০বছর উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অভ্ এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ) এ সেমিনারের আয়োজন করে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও যৌথভাবে কাজ করছে। তৈরি পোশাক ছাড়াও বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৃষির বিভিন্ন খাত বিশেষ করে প্রাণিসম্পদ খাতে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক রয়েছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে দৃঢ় ও গতিশীলভাবে কাজ করছে। প্রধান অতিথি বলেন, সরকার দেশে গুঁড়ো দুধ আমদানিতে উৎসাহী নয়। এ জন্য বেসরকারি খাতকে সরকার গুঁড়ো দুধ উৎপাদনের শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করছে। গুঁড়ো দুধ, প্রাণিখাদ্য, মৎস্য খাদ্যসহ অন্যান্য খাদ্য আমদানিতে সরকার সন্তুষ্ট নয়। বর্তমানে বৈশ্বিক বৈরী পরিস্থিতির কারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি ও পরিবহণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এ জন্য বেসরকারি খাতকে দেশে শিল্প স্থাপনে আহ্বান জানানো হচ্ছে। সরকার এ খাতের উন্নয়নে নীতি নির্ধারণসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি খাত আমাদের দেশের চাহিদা পূরণ ও তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসতে পারে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও গবেষণার ক্ষেত্র বৃদ্ধিতে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা উন্মুক্ত থাকবে। প্রাণিসম্পদ খাত বিগত ৫০ বছর ধরে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রাণিসম্পদ খাতের বিজ্ঞানীরা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও অবদান রাখছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ দু’দেশের মধ্যে একসাথে কাজের ক্ষেত্র বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করতে পারে। এটা হতে পারে দু’দেশের মধ্যে প্রশিক্ষণ, শিক্ষা বিনিময়সহ অন্যান্য কর্মসূচি। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অভ্ মিশন হেলেন লাফেবের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী ও যুক্তরাষ্ট্রের লাইভস্টক জেনেটিক্স এক্সপার্ট এর প্রেসিডেন্ট ড. মার্টিন সিবার। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে ইউএসডিএ-এর এগ্রিকালচারাল এটাচে মেগান ফ্রান্সিস। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম ফেরদৌস আলম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদাসহ অধিদপ্তরের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।