মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ , ১১:০৬ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিচালিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দীর্ঘ ৫১ বছরেও আদায় হয়নি। তবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস ঘোষণা করেছে। তিনি এই দিবসটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ২৫ হাজার মানুষকে হত্যা করে। পৃথিবীতে এত স্বল্প সময় এত বেশি সংখ্যক মানুষ হত্যার রেকর্ড নেই। এরপর দীর্ঘ ৯ মাসে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধীরা বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে ও সারা দেশে ব্যাপক লুটতরাজ চালিয়েছে। দুই লাখ মা বোনের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে। তাই ওই গণহত্যার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ৯ ডিসেম্বরের পাশাপাশি ২৫ মার্চকেও আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণা দিতে হবে।’ জাতিসংঘের কাছ থেকে এই স্বীকৃতি আদায়ের জন্য দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরবর্তী দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সেই বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্বাধীনতা বিরোধীদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচার শুরু করেছে। রাজাকার-আলবদরদের তালিকা তৈরির জন্য সংসদে আইন পাস হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী দলগুলোর নিবন্ধন নির্বাচন কমিশন বাতিল করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে নেদারল্যান্ডসের প্রবাসী সংগঠন বাংলাদেশ সাপোর্ট গ্রুপ (বাসুগ) এবং প্রজন্ম ৭১ ও আমরা একাত্তর এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উত্থাপন করেন আমরা একাত্তরের প্রধান সমন্বয়কারী হিলাল ফয়েজী। বক্তৃতা করেন গণহত্যা বিশেষজ্ঞ ও শহিদ সন্তান প্রদীপ কুমার দত্ত ও প্রজন্ম ৭১-এর সভাপতি আসিফ মুনীর।