মৃত্যুঞ্জয়ী শেখ রাসেল আমাদের হৃদয়ের গভীরে চিরভাস্মর

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৮, ২০২২ , ১০:০৮ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি আর দেশি-বিদেশি অপশক্তির ষড়যন্ত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে বিশ্বের ইতিহাসের বর্বর ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। শিশু শেখ রাসেলও রক্ষা পাননি এ হত্যাকাণ্ড থেকে। রাষ্ট্রও সেদিন হত্যাকারীদের পাশে দাঁড়ায়। জাতি হিসেবে আমরা ডুবলাম আকণ্ঠ লজ্জায়। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রাবস্থায় মাত্র ১১বছর বয়সে শহিদ হন শেখ রাসেল। স্বল্পস্থায়ী জীবনের অধিকারী হলেও তার আতিথেয়তা, পরোপকার এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রভৃতি মানবীয় গুণাবলির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ী শেখ রাসেল আমাদের হৃদয়ের গভীরে চিরভাস্মর হয়ে থাকবেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২২’ উপলক্ষ্যে ‘শেখ রাসেল নির্মলতার প্রতীক দুরন্ত প্রাণবন্ত নির্ভীক’ প্রতিপাদ্যে মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক বন অধিদপ্তরে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আব্দুল হামিদ ও বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরী এবং বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সভার পূর্বে মন্ত্রী বন অধিদপ্তরে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহিদ শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অনুষ্ঠানে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষ্যে বন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তর আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দোয়া মাহফিলে শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্টের সকল শহিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। দোয়া মাহফিলের পর বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট কর্তৃক উদ্ধার করা বিভিন্ন প্রজাতির পাখি অবমুক্ত করেন মন্ত্রী। পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, হত্যাকারীরা জানতো জাতির পিতার রক্তের ধারা যতদিন এ দেশের মাটিতে থাকবে ততদিন বাংলাদেশকে ঘিরে কোনো কুপরিকল্পনাই তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। তাই তারা বঙ্গবন্ধুর রক্তের ধারাকেও চিরতরে স্তব্ধ করতে চেয়েছিল। আর এ কারণেই শিশু রাসেলকে হত্যা করতেও বিন্দুমাত্র বিলম্ব করেনি তারা। ষড়যন্ত্রকারীদের সকল আশঙ্কা সত্য করে জাতির পিতার রক্তের ধারার হাত ধরেই বাংলাদেশ আজ ঘুরে দঁড়িয়েছে, বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।