জাহাজ পুন:প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে

প্রকাশিত : অক্টোবর ২৩, ২০২২ , ৫:২৩ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এম.পি বলেছেন, জাহাজ পুন:প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে বাংলাদেশ পরিবেশগত, পেশাগত সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। রবিবার ঢাকায় শিল্পমন্ত্রী অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মি: এসপেন রিক্টর-সেভেনডনেস (Mr. Espen Rikter-Svendsen) সাক্ষাত করতে আসলে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধ করতে না পারা, বিভিন্ন রকম দুর্ঘটনা এবং দেশে-বিদেশে নানা নেতিবাচক প্রচারের কারণে জাহাজ পুন:প্রক্রিয়াজাতকরণ সেক্টর বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দূরদর্শী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০১১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জাহাজ পুন:প্রক্রিয়াজাত কার্যক্রমকে ‘শিল্প’ হিসেবে ঘোষণা করেন। শিল্প মন্ত্রণালয় জাহাজ পুন:প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের পরিচালনা, উন্নয়ন ও বিকাশের অংশ হিসেবে ২০১১ সালে ‘শিপ ব্রেকিং এন্ড শিপ রি-সাইক্লিং রুলস্’ জারি করে এবং ২০১৮ সালে ‘বাংলাদেশ জাহাজ পুন:প্রক্রিয়াজাতকরণ আইন’ প্রণয়ন করে।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত দি হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দি সেফ এন্ড এনভায়রনমেন্টালি সাউন্ড রি-সাইক্লিং অব শিপস, ২০০৯ (দি হংকং কনভেনশন) অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, এ কনভেনশন অনুমোদনের ফলে জাহাজ পুন:প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাবে। নরওয়ে একটি জাহাজ নির্মাণকারী জাতি। মেয়াদকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় নরওয়েতে প্রচুর জাহাজ রি-সাইক্লিং এর অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশী ইয়ার্ডগুলি এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারে। এজন্য পরিবেশগত ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘দি হংকং কনভেনশন’ ২০২৩ সালের মধ্যে অনুমোদন করা হলে বাংলাদেশ আরও দুই বছর সময় পাবে এ সংক্রান্ত শর্তগুলি প্রতিপালন করার জন্য। শিল্পমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে জানান, আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা প্রবর্তিত ‘দি হংকং কনভেনশন’ অনুমোদনের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের বিবেচনাধীন আছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পিএইচপি শিপ ব্রেকিং এন্ড শিপ রি-সাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি ইয়ার্ড এ শিল্প সংক্রান্ত সর্বোচ্চ কমপ্লায়েন্স সনদ অর্জন করেছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে ইয়ার্ডসমূহের কারিগরি ও কাঠামোগত উন্নয়নে ইতোমধ্যে ৮৫টি ইয়ার্ড ‘শিপ রি-সাইক্লিং ফ্যাসিলিটি প্লান’ প্রস্তুত করেছে এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: জাফর উল্লাহ ও শেখ ফয়েজুল আমিন, যুগ্ম-সচিব মো: আব্দুল ওয়াহেদ, উপ-সচিব মো: মোমিনুর রশীদ এবং বাংলাদেশে নরওয়ে দূতাবাসের উন্নয়ন বিষয়ক ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা মোরশেদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।