মানসিক স্বাস্থ্যকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৮, ২০২২ , ১০:১২ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশের ১৮ দশমিক ৪ ভাগ পূর্ণবয়স্ক মানুষ যা মোট জনসংখ্যার অনুপাতে প্রায় ৩ কোটি মানুষ এখন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এর বাইরে আরো ১৩ ভাগ শিশু-কিশোরও এই মানসিক রোগে আক্রান্ত। দেশে বর্তমানে বছরে ১০-১৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করছে যা ভাববার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্য জটিল রোগগুলোর মতোই মানসিক স্বাস্থ্যকে আর হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য রিপোর্ট ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কর্মকৌশল পরিকল্পনা ২০২০-৩০ এর অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে দক্ষ জনবল বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেকে চাকরি হারায়, দেশের প্রোডাক্টিভিটি কমে যায়, অপরাধের মাত্রা বাড়ে এমনকি উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ে এই মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে। অন্যদিকে মানসিক স্বাস্থ্যে বাজেট মাত্র দশমিক পাঁচ শতাংশ যা অনেক কম। এটি কীভাবে বাড়ানো যায় তা চেষ্টা করা হবে। শতকরা ৯২ ভাগ মানুষ মানসিক চিকিৎসা সেবার বাইরে রয়েছে। এটি নিয়েও আমাদেরকে আরো বেশি কাজ করতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসময় বলেন, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে ২শ’ বেড থেকে ৪শ’ বেডে উন্নীত করাসহ আরো নানাবিধ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কাউন্সিলিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২শ’ উপজেলায় এনসিডি কর্নার রয়েছে, সেখানেও এই কাউন্সিলিং করার ব্যবস্থা থাকছে। এ সময় মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে পরিবার থেকেই পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, অনুষ্ঠানের কি-নোট বক্তা প্রধানমন্ত্রীকন্যা সায়মা ওয়াজেদ। তিনি বলেন, একজন মানুষের মানবিকতা দিয়ে আরেকজন মানুষের মানসিক কষ্টের কথা বিবেচনা করলে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাহীন মানুষগুলো আরেকটু ভালো সেবা পাবেন। দেশে এখন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রয়োজনীয় সবরকম আইন করা হয়েছে। কর্ম পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এখন সেগুলো কাজে প্রয়োগ করতে হবে। সায়মা ওয়াজেদ আরো বলেন, আমাদের শারীরিক চিকিৎসার নানা কর্মকৌশল থাকলেও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ছিল না। এ জন্য নানা পরিকল্পনা আমরা করেছি। মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একটা উন্নত পরিবেশ দরকার। শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চাইলেই হবে না, আমাদের সবার এগিয়ে আসতে হবে। পরিবার থেকেই এটি চালু করতে হবে। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে শিশুদের নিয়ে একটি চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক প্রফেসর আমিরুল মোর্শেদ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি সাধনা ভগবতসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।