নির্যাতন ও সহিংসতা নারীর উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে

প্রকাশিত : জুন ২১, ২০২২ , ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, সংগৃহীত চিত্র।

কিগালি (রুয়ান্ডা), ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন:নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতা নারীদের সকল ধরনের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে জানিয়েছেন ম‌হিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফ‌জিলাতুন নেসা ইন্দিরা। তিনি ব‌লে‌ন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবার থেকেই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশ সরকার জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ করতে বদ্ধপরিকর। প্রতিমন্ত্রী মঙ্গলবার রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে অনুষ্ঠিত ৩য় কমনওয়েলথ উইমেন্স ফোরামের দ্বিতীয় দিনে ‘এনগেজিং মেন এন্ড বয়েজ: এন্ডিং ভায়োলেন্স এগেইনিস্ট উইমেন এন্ড গার্লস’ সেশনে আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা নির্ভর করে সামাজিক অবস্থা ও মূল্যবোধের ওপর। নারী নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ করতে সরকারের সাথে বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যম সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছে। এলক্ষ্যে সরকার পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন, বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন, যৌতুক নিরোধ আইন, ডিএনএ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২০ প্রণয়ন করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন বিচার ট্রাইবুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল ব্যবস্থায় নারীদের নিরাপত্তার জন্য সাইবার সিকিউরিটি ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়েছে। সংশোধিত শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক এবং ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ করা হয়েছে। আইনের কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি দ্রুত নিশ্চিত হচ্ছে।প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা ব‌লে‌ন, নারী নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, সেল ও ট্রমা হেল্প সেন্টারকে উত্তম চর্চা হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ অনুসরণ করছে। আট হাজার কিশোর-কিশোরী ক্লাবের মধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টি করতে সহিংসতা, বাল্যবিয়ে ও যৌতুক রোধ বিষয়ে কিশোর-কিশোরীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। ‘এনগেজিং মেন এন্ড বয়েজ: এন্ডিং ভায়োলেন্স এগেইনিস্ট উইমেন এন্ড গার্লস’ সেশনে ক্যামেরূনের সার্ভাইভারস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক Awah Francisca Mbuli, ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন আফ্রিকার পরিচালক Toyin Ojora Saraki, সিচেলিসের যুব ও ক্রিড়া মন্ত্রী Celine Zialor, দক্ষিণ আফ্রিকার Bafana Khumalo ও কানাডার হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভের পরিচালক Sneh Aurora সহ কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।