বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ছিলেন সতত প্রেরণাদায়ী মহীয়সী নারী

প্রকাশিত : আগস্ট ৮, ২০২২ , ৮:৪১ অপরাহ্ণ

শিল্প প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ কামাল আহমেদ মজুমদার, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: শিল্প প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ কামাল আহমেদ মজুমদার বলেছেন, ১৯৩০ সালের ৮ই আগস্ট মধুমতিবিধৌত গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, আজ তাঁর ৯২তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য সহধর্মিণী, সতত প্রেরণাদায়ী। রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত না থেকেও তিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রেরণার সবচেয়ে বড় উৎস ছিলেন। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুকে তিনি প্রশ্নহীনভাবে সমর্থন দিয়েছেন, মনোবল, সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে নিজেকে উৎসর্গ করে গেছেন। সোমবার রাজধানীর রূপনগর এলাকায় মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ভবনের অডিটোরিয়ামে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী এসবকথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, তাঁর সহজাত মানসিকতা, সাহস ও আত্মবিশ্বাসী সত্ত্বা দ্বারা তিনি প্রভাবিত হয়েছেন। কর্মের মাধ্যমেই তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন একটি সংগ্রামমুখর জীবনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দিনের পর দিন বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকাবস্থায় শত সংকট মোকাবিলা করেও তিনি সংসার সামলে ছেলেমেয়েদের লালন-পালন করেছেন, তাদের পড়াশোনা করিয়েছেন। কোনো দিন স্বামীর প্রতি ন্যূনতম অভিযোগ না করে তাকে রাজনৈতিক লক্ষ্যের পানে এগিয়ে যেতে নিরন্তর উৎসাহ জুগিয়ে গেছেন। কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে, নেতৃত্বের প্রশ্নে আওয়ামী লীগে যখনই কোনো সংকটের কালো ছায়া ঘনীভূত হয়েছে, বঙ্গমাতা সেই কালো ছায়া দূর করার জন্য পর্দার অন্তরালে থেকে দৃঢ়, কৌশলী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। অত্যন্ত প্রখর স্মরণশক্তির অধিকারী বঙ্গমাতা আন্দোলন চলাকালীন প্রতিটি ঘটনা জেলখানায় সাক্ষাৎকারের সময় বঙ্গবন্ধুকে জানাতেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা এনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে জানাতেন। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কালরাতে ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম হত্যাকাণ্ডের সময়ও বঙ্গবন্ধুর আজীবন সুখ-দুঃখের সাথী মৃত্যুকালেও তাঁর সঙ্গী হয়েই রইলেন। তাই বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের আদর্শকে বুকে ধারণ করে নারীসমাজকে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে। মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রাশেদা আক্তার। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ জহুরুল আলম ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. জেসমিন আরা সুলতানাসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী কাফরুল এলাকায় মিরপুর-১৪ নম্বর স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।