১৭ আগস্ট সন্ত্রাস বিরোধী দিবস পালন

প্রকাশিত : আগস্ট ১৭, ২০২২ , ৭:০১ অপরাহ্ণ

ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: বুধবার ১৭ আগস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির আহুত দেশব্যাপী সন্ত্রাস বিরোধী দিবস পালিত হয়। ১৯৯২ সালের ১৭ আগস্ট ওয়ার্কার্স পার্টির তোপখানা রোডস্থ কার্যালয়ের সামনে রাশেদ খান মেননকে হত্যার জন্য গুলি করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও পরে সিএমএইচ-এ তার চিকিৎসা ও অপারেশনের পর তাকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। কমরেড রাশেদ খান মেননের হত্যা-চেষ্টার ৩০ বছরেও তার প্রকৃত তদন্ত ও বিচার হয়নি। পার্টির তরফ থেকে এই হত্যা-চেষ্টার পিছনে সেই সময় এ মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ একটি দায়সারা তদন্ত করে কতিপয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করে। পরে পার্টির তরফ থেকে পুনঃ তদন্তের দাবির প্রেক্ষিতে অধিকতর তদন্তের পদক্ষেপ নেয়া এবং বিচার কার্য সম্পন্ন করা হয়নি।

রক্তদান কর্মসূচি
আজ সকাল ১০টায় পার্টি কার্যালয়ের চত্বরে ওয়ার্কার্স পার্টি চিকিৎসা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, অধ্যাপক ডা. আহসান হাবিব হেলাল। কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড কামরূল আহসান, বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের সহ সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি বীর-মুক্তিযোদ্ধা কমরেড আবুল হোসাইন, কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন। সভাপতিত্ব করবেন পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক। রক্তদান কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদ।

ঢাকায় সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল

সন্ত্রাস বিরোধী দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি বীর-মুক্তিযোদ্ধা কমরেড আবুল হোসাইন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পার্টির পলিটব্যুরোর অন্যতম নেতা কমরেড কামরূল আহসান। সভা পরিচালন করেন ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক কমরেড কিশোর রায়। সমাবেশে পার্টির কেন্দ্রীয় ও মহানগরসহ বিভিন্ন গণ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ৩০ বছরের কত সরকার গেল, কত সরকার আসলো কোন সরকারই মেনন হত্যা-চেষ্টার বিচার করেনি। নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাশেদ খান মেনন স্বাধীনতা সংগ্রামী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। এই মুক্তিযোদ্ধার হত্যা-চেষ্টার বিচার না হওয়ার দেশবাসী ক্ষুব্ধ। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বর্তমান সরকার বঙ্গবন্ধুর হত্যা এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচার কার্য করলেও মেনন হত্যা-চেষ্টার বিচার না করায় দেশবাসী সংশয় প্রকাশ করছেন। বক্তারা বলেন, মেনন হত্যা-চেষ্টার অবিলম্বে বিচার কার্য সম্পন্ন করতে হবে। তা নাহলে দেশবাসী এই হত্যা-চেষ্টার বিচার কার্য সম্পন্ন করার জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে। দেশে আইনে শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মেনন হত্যাচেষ্টারসহ সকল হত্যার বিচার করা বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কমরেড রাশেদ খান মেনন ১৪ দলের আন্দোলনের রূপকার। ১৪ দলের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হয়েছেন। ফলে দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সকল হত্যা ও হত্যা-চেষ্টার বিচার কোন বিকল্প নাই। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।