ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত : আগস্ট ৩১, ২০২২ , ৯:১৩ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসী, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ঝিনাইদহে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, রামদা, হকিস্টিক ও হাতুড়ি দিয়ে হামলা করা হয়েছে। ভাংচুর ও লুট করা হয়েছে বিএনপি নেতাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ি ঘর। হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এরমধ্যে ২৭ জন গুরুতর আহত হয়ে ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ, শৈলকূপা, ঢাকা ও যশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মঙ্গলবার বিএনপির সমাবেশে আসা যাওয়ার পথে আ’লীগ এই হামলা চালায়। বুধবার দুপুরে এইচএসএস সড়কস্থ ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে বিএনপি। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, বিএনপি নেতা মুন্সি কামাল আজাদ পাননু, সাজেদুর রহমান পাপপু, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, আলামগীর হোসেন আলম, শাহজাহান আলী, আবু বক্কার সিদ্দিক,আসিফ ইকবাল মাখন,কামরুজ্জামান লিটন,আমিনুল ইসলাম লিটন, মহিলাদল নেত্রী অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান লিজি, তহুরা বেগম, আশরাফুল ইসলাম পিন্টু, মিজানুর রহমান সুজন, প্রভাষক কামাল হোসেন, মাহফুজুর রহমান ইপিআরসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী হাইস্কুল মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে সদর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও জেলার ৬টি উপজেলা থেকে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করে। তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যাতে এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করতে না পারে সে জন্য সরকার দলীয় লোকজন বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। হামলায় বিএনপি’র প্রায় ১০০ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে ঘোড়শাল ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আশিক, রুবেল, আলামীন, পলাশ, রিয়াজ হাসান, এনামুল, রিয়াজ, রাকিব, শুভ ও পারভেজ আহত হন। মধুহাটি ইউনিয়নের কৃষকদল নেতা ইমরান ও নাজির, সাগান্না ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মকলেচুর রহমান বকুল, মহারাজপুর ইউয়িনের বিএনপি নেতা সঞ্জের আলী, গান্না ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা শামীম ও নিশাদ, বিএনপি নেতা আনিচ, শাহাজান, যুবদল নেতা জুবায়ের ও কাওসার, নলডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক গেলাম রসুল, বিএনপি নেতা সবজেল, মনিরুল, আলীম, পদ্মাকর ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি ওলিয়ার রহমান, শৈলকূপা উপজেলার যুব-নেতা আনারুল, জুয়েল, বাবু, মাজেদ, আসাদুল, তারেক, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাইফুল ইসলাম, কোটচাঁদপুর উপজেলা যুবদল নেতা সিরু, আশরাফ, কোটচাঁদপুর ছাত্রদলের সদ্য সচিব হীরা, কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়ন বিএনপি নেতা সফর আলী, যুবদল নেতা লোকমান, কাষ্টভাংগা ইউনিয়নের বিএনপি নেতা আতিয়ার ও যুবদল নেতা পিয়ারকে আ’লীগের লোকজন পিটিয়ে আহত করে। হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা বিএনপি’র নেতাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। বিএনপি নেতা কামাল আজাদ পাননুর মালিকানাধীন ঝিনাইদহ শহরের প্রিন্স হাসপাতাল এন্ড ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে দাতের এক্সরে মেশিন (ওজিটি), অফিস ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। হামদহ অঞ্চলের সদর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ঠান্ডুর প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে। জেলা শ্রমিক দল নেতা শিবলুর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও নগদ অর্থ লুট করেছে। যুবদলের থানায় আহ্বায়ক আশরাফ হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। আর এই হামলা হয়েছে ঝিনাইদহ সদর আসনের এমপির ইন্ধনে। এছাড়া সাগান্না ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে নিজেরা আগুন দিয়ে বিএনপি’র ১২ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করেছে বলে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হুসিয়ার উচ্চারণ করে বলা হয়, এভাবে যদি একের পর এক হামলা নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা করা হয় তাহলে প্রতিবাদ স্বরূপ বিএনপি ঝিনাইদহ জেলায় অবরোধ ও হরতালের মত কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে।