ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২ , ৮:২৩ অপরাহ্ণ

হেলালী ফেরদৌসী, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ঝিনাইদহের সদর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল বিজয়ী হয়েছেন। রবিবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে বেসরকারি ভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আঃ ছালেক । বিজয়ী প্রার্থী কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল এর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ২৫হাজার ৯শ’ ৮৩। এবারই তিনি প্রথমবার বিজয়ী হলেন। দীর্ঘ সাড়ে ১১বছর পর ঝিনাইদহ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর পৌরসভার ৪৭টি কেন্দ্রের র ২৬৫টি ভোট কক্ষে টানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা-কারী আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক মনোনীত মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক পেয়েছেন ১৭হাজার ২শ’ ৮৮ ভোট।স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল ৮,৬৯৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী। এদিকে কাউন্সিল পদে বিজয়ীরা হলেন, ১নং ওয়ার্ডে ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে টিপু সুলতান বেসরকারি ভাবে বিজয়ী, ২নং ওয়ার্ডে মোঃ আবু বক্কার বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, ৩নং ওয়ার্ডে আলাউদ্দিন জোর্য়াদ্দার লাড্ডু, ৪নং ওয়ার্ডে শামসিল আরেফিন কায়সার জয়ী, ৫ নং ওয়ার্ডে সাইফুল ইসলাম মধু জয়ী,৬ নং ওয়ার্ডে লিয়াকত হোসেন জয়ী, ৭নং ওয়ার্ডে মহিউদ্দিন মহি, ৮ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন নতুন মুখ সাদেক আলী ও ৯ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হয়েছেন রেজাউল করিম রেজা বিশ্বাস নির্বাচিত। এদের মধ্যে টানা ৬ষ্টবারের মতো কাউন্সিলর বিজয়ী হয়েছেন ০৫ নং ওয়ার্ডের সাইফুল ইসলাম মধু তিনি কাউন্সিলর হিসাবে ০৬ ষষ্ঠ বারের মত নির্বাচিত হলেন।এছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে বিজয়ীরা হলেন, ১,২,৩ নং ওয়ার্ডে, ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডে ও ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডে । এ নির্বাচনে মোট ভোটের সংখ্যা ৮২ হাজার ৬৯৫ জন। মেয়র পদে চার জন, কাউন্সিলর পদে ৬৪ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর পদে ১৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে ১৮ জন নির্বাহী ও তিন জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা বলয়।এ ছাড়াও ৩৫৫ জন পুলিশ ও ৮০১ জন আনসার নিয়োজিত ছিল। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কঠোর ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহন শেষ হয়েছে। সকাল থেকে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ভোট উৎসবে বাগড়া দেয়। ফলে ঘন্টা দুয়েক ছন্দ পতন ঘটে। অনেকে বৃষ্টি ভিজে ভোট দিতে দেখা গেছে। ইভিএম পদ্ধতি ভোট হওয়ায় ঝিনাইদহ শহরের মানুষ এক নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। প্রথমে ইভিএম নিয়ে ভোটারদের মাঝে সন্দেহ থাকলেও ভোট প্রদানের পর সেই ঘোর কেটে যায়। ভোটাররা জানান, ইভিএমে ভোট দিতে তাদের কষ্ট হয়নি। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা ইভিএম বুঝিয়ে দিলে সে মোতাবেক তারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। এদিকে ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে ভিতরে বাইরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ছিল। বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দারা টহলে ছিল। ভোট দিয়ে এসে ভোটাররা জানান, রুমে রুমে অনেক প্রার্থীর এজেন্ট না থাকলেও কারচুপির কোন সুযোগ ছিল না। নিজের পছন্দের প্রতিকে ভোট দিতে পেরেছেন।