ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় দুই হেভি-ওয়েট প্রার্থীর লড়াই

প্রকাশিত : অক্টোবর ১২, ২০২২ , ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

বিধান দাস, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: আগামী ১৭ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হেভি-ওয়েট দুই সদস্য প্রার্থী।তাদের একজন হলেন- ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য দেবাশীষ দত্ত সমীর, তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ‘অটো রিক্সা’ ও অন্যজন হলেন-মোশারুল ইসলাম সরকার, তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চার বারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান, তার নির্বাচনী প্রতীক ‘টিউবওয়েল’। দুই প্রার্থীই ক্ষমতাসীন দলের, তাই যোগ্য প্রার্থী হিসেবে বেছে নিতে ভোটাররাও রয়েছে নানা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে।এদিকে দিন যতো ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনে জিততে দুই প্রার্থীই মরিয়া হয়ে উঠেছেন। স্ব স্ব অবস্থানে থেকে ভোটারদের মন ভোলাতে দুই প্রার্থীই দিন-রাত ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে এই ভোটে সাধারণ নাগরিকরা ভোটার নন, ভোটাররা হলেন-পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারগণ। জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় মোট ভোটার ৩০৬ জন, এরমধ্যে পৌরসভার একজন কাউন্সিলর অব্যাহতি নিয়ে জেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনে সদস্য প্রার্থী হওয়ায় ভোটের সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ৩০৫টি।এক জরিপে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত মেম্বারদের মধ্যে ৩৪জন মেম্বারই যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বে রয়েছেন।এছাড়াও নির্বাচিত মেম্বারদের মধ্যে ৬২জন সদস্য হিন্দু সম্প্রদায়ের। ভোটের হিসেবে মতে ধরে নেওয়া যায় এই ভোটগুলো স্বাভাবিকভাবেই যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দত্তের পক্ষে কাজ করবে। অপর দিকে ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ চেয়ারম্যানরা কাজ করছে সদর উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলামের পক্ষে। এদিকে দুই হেভি-ওয়েট প্রার্থীর নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া নিয়ে জেলার সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহলের দানা বাঁধতে শুরু করেছে। অনেকেই ভাবছে নিজেদের মধ্যে নির্বাচনী যুদ্ধে দাড়ানোটা মোটেও সমীচীন হয়নি।সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিরসন করে একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারলে দলের জন্য শুভকর হতো।কেননা এতে করে দলের ভিতর দল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়, নেতা-কর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগেন।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভূট্টোর সাথে কথা হলে তিনি জানান, জেলা পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচন যদিও বিষয়টি আহামরি কিছু নয়, তারপরও যদি আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা দুই প্রার্থীকে নিয়ে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারতেন, আমার মনে হয় ভালো কিছু একটা রেজাল্ট আসতো, আমি মনে করি আমরা সে জায়গায় ব্যর্থ হয়েছি। কেননা দু’জনই আমাদের দলীয় লোক। এখন যেহেতু নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে এবং দুই প্রার্থীই মাঠে সরব, এখানে যে প্রার্থীই ভোটারদের মন জয় করতে পারবে সেই বিজয়ী হবে। আর আমাদের দলীয়ভাবে কাউকে যেহেতু সমর্থন দেওয়া হয়নি, তাই জেলা নেতৃবৃন্দরা এ বিষয়ে কেউ হস্তক্ষেপ করছে না। নির্বাচন বিষয়ে জানতে ঠাকুরগাঁও জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিশ্বাস জেলা পরিষদের নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবং সুষ্ঠু ভোট হলে আমার সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত সমীর বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।কেননা এর আগে সে জেলা পরিষদের একজন অন্যতম সদস্য ছিলো এবং সদস্য থাকাকালীন সরকারি যেসকল অনুদান সে পেয়েছে তা সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করে দিয়েছে, তার কোনও অনিয়ম কেউ দেখাতে পারবে না।শুধু সরকারি অনুদানই নয়, সে ব্যক্তিগতভাবেও মানুষের বিপদে-আপদে এমনকি করোনাকালিন সময়েও সামর্থ্যানুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।কাজেই চেয়ারম্যান-মেম্বার ও কাউন্সিলররা তাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে বলে আমার বিশ্বাস। এদিকে নির্বাচনী পরিবেশ কিরকম রয়েছে এবং নির্বাচনে জয় লাভের বিষয়ে জানতে চেয়ে জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থী মো: মোশারুল ইসলাম সরকারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি কোনও কথা বলতে রাজি হননি। একই বিষয়ে জানতে জেলা পরিষদের সদর উপজেলার আরেক প্রার্থী দেবাশীষ দত্ত সমীরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রয়েছে। ভোটাররা অধীর আগ্রহে ভোট দানের অপেক্ষা করছে। আমি শতভাগ আশাবাদী যদি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয় তাহলে আমার বিজয় সুনিশ্চিত। প্রসঙ্গত, ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিলো ১৫ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই হয় ১৮ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিলের সময় ছিলো ১৯-২১ সেপ্টেম্বর, আপিল নিষ্পত্তি হয় ২২-২৪ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিলো ২৫ সেপ্টেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয় ২৬ সেপ্টেম্বর ও ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ অক্টোবর ২০২২ ইং তারিখে।