জাতীয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান অপরিসীম: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত : আগস্ট ৭, ২০২২ , ১০:০৩ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেছেন, জাতীয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অপরিসীম। তিনি ঢাকা জাদুঘরকে জাতীয় জাদুঘরে রূপান্তরে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন এবং জাতীয় জাদুঘরের জন্য জমি বরাদ্দ প্রদান করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরের শাসনামল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়- এমন কোনো আইন নেই যা তিনি প্রণয়ন করে যাননি। আমরা যখনই কোনো নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাই, দেখা যায় বঙ্গবন্ধু ইতোমধ্যে তা প্রণয়ন করে গেছেন। এতেই বোঝা যায়- বঙ্গবন্ধু কতটা বিচক্ষণ ও সুদূরপ্রসারী চিন্তার অধিকারী ছিলেন। যুগের প্রয়োজনে আমাদের সেসব আইন শুধুমাত্র পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও সংস্করণ করতে হয়।
প্রতিমন্ত্রী রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ১০৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাদুঘর আয়োজিত ‘ঢাকা থেকে জাতীয় জাদুঘর: রূপান্তরের ইতিবৃত্ত’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাদুঘরকে আজকের পর্যায়ে উন্নীতকরণের জন্য যে দু’জনের নাম উল্লেখ না করলেই নয়, তাঁরা হলেন নলিনীকান্ত ভট্টশালী ও ড. এনামুল হক, যাদের মধ্যে ড. এনামুল হক কিছুদিন আগে প্রয়াত হয়েছেন। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাভরে শ্রদ্ধা জানাই। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় জাদুঘরে প্রায় ১ লাখ নিদর্শন রয়েছে যার মধ্যে আমরা মাত্র ৫ শতাংশ প্রদর্শন করতে পারি। সেজন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক জাতীয় জাদুঘরকে আধুনিকায়ন করার পদক্ষেপ নিয়েছি। আশা করছি, শীঘ্রই এ প্রকল্প অনুমোদিত হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্যালারির সংখ্যা বাড়ানো যাবে এবং আরো অধিক নিদর্শন প্রদর্শন করা যাবে। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আবুল মনসুর। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পর্ষদের সদস্য সাবেক সচিব উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোকাম্মেল এইচ ভূঁইয়া। আলোচনা করেন ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কীপার শিহাব শাহরিয়ার। প্রতিমন্ত্রী পরে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি নিদর্শন, বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের দুর্লভ আলোকচিত্র ও বঙ্গবন্ধুর লেখা বিভিন্ন গ্রন্থ নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু: মুক্তির অগ্রনায়ক’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন এবং প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।