মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় জনগণের অংশগ্রহণে সফলতা ত্বরান্বিত হতে পারে

প্রকাশিত : অক্টোবর ৩০, ২০২২ , ৮:২৪ অপরাহ্ণ

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় সরকারের সাথে জনগণের অংশগ্রহণে সফলতা ত্বরান্বিত হতে পারে। পাশাপাশি জনসচেতনতাও বাড়ানো জরুরি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম।
রবিবার মন্ত্রণালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সারা দেশে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক ২০২২ সালের ৫ম আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা জানান। মন্ত্রী বলেন, সাধারণ জনগণকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সম্পৃক্ত করতে হবে। সকল স্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য দায়িত্বশীল সবার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, এশিয়ার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ভারতসহ অন্য দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায় এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, এবছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে ২৮ হাজার ১৯৬, ইন্দোনেশিয়ায় ৯৪ হাজার ৩৫৫, মালয়েশিয়ায় ৩৭ হাজার ৯৫০, ফিলিপাইনে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫০ এবং ভারতে ৬৩ হাজার ২৮০ জন মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আর বাংলাদেশে এবছরের জানুয়ারি থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৯২৩ জন রোগী আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কম হলেও সেটি বেদনাদায়ক। তুলনা দেওয়ার কারণ এদেশগুলো আমাদের মতোই ট্রপিক্যাল দেশ। মন্ত্রী আরো বলেন, ২০১৯ সাল থেকে আমরা ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি। ২০২০ সালে এসে সেই সফলতা দেখাতে সক্ষম হয়েছি। তবে ২০২২ সালে এসে আবার পরিস্থিতির অবনতি লক্ষ্য করছি। যদিও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পরিস্থিতি এখনো অনেক খারাপ। তিনি বলেন, এই বছর আগের তুলনায় আবহাওয়ার ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। এখন থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্যই ডেঙ্গুর পরিস্থিতি এসময় আগের তুলনার বেশি। মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকা মহানগরীতে বসবাসরত মানুষদের একটি বাসযোগ্য ও দৃষ্টিনন্দন শহর উপহার দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে বসবাস করুক এটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মূল লক্ষ্য। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনসহ স্থানীয় সরকার বিভাগ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা ও সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।