সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানিকে দক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ৩, ২০২২ , ৮:৩৫ অপরাহ্ণ

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪শত ৪১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা আয় করেছে। এর ফলে কোম্পানিটির গত অর্থবছরে করপরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২শত ৫০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকার ৫৬ কোটি টাকা লভ্যাংশ পেয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অর্থাৎ পাঁচ বছর আগে রাজস্ব আয় ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার কে এই তথ্য অবহিত করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আজম আলী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানিকে একটি সময়োপযোগী প্রযুক্তিতে দক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সরবরাহে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম ছিল ২৭ হাজার টাকা। সরকার জনগণের নিকট ইন্টারনেটের দাম সাশ্রয়ী করতে তা বর্তমানে মাত্র ২শত ৪০ টাকায় নামিয়ে এনেছে। মোস্তাফা জব্বার বলেন, ২০০৮ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির হাত ধরে সেই পশ্চাদপদতা অতিক্রমই করেনি বরং হাওর, দ্বীপ, চরাঞ্চল ও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ১৩ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং ৩৮৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি এককভাবেই ২৪০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করছে। অবশিষ্ট ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করছে ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল কোম্পানিসমূহ (আইটিসি)। বাংলাদেশের জন্য তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযুক্তি ডিজিটাল প্রযুক্তি দুনিয়ায় বাংলাদেশের আরো একটি ঐতিহাসিক অর্জন উল্লেখ করেন কম্পিউটারে বাংলা ভাষার এই প্রবর্তক। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণ, ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক চালু এবং তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগে নির্বাচনি ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সফলতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ২০১৯ সাল থেকে সরকার কাজ শুরু করেছে। মন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সাল নাগাদ দেশে ৬০০০ জিবিপিএস-এরও বেশি আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পরও হাতে যথেষ্ট পরিমাণ ব‌্যান্ডউইথ আছে ও থাকবে। তিনি আরো বলেন, দেশে নেটওয়ার্কের বর্ধিত চাহিদা মিটিয়ে ফ্রান্স, সৌদি আরব ও ভারতের ত্রিপুরায় ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা হচ্ছে। ভুটান ও নেপাল এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করার বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে বলে মন্ত্রী জানান। তৃতীয় সাবমেরিন সংযোগ সম্পন্ন হলে ২০২৫ সালে অতিরিক্ত আরও প্রায় ১৩২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সংযুক্ত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়াও প্রথম সাবমেরিন ক‌্যাবলে আরো ৩৮০০ জিবিপিএস ব‌্যান্ডউইথ সংযুক্ত হচ্ছে অর্থাৎ বর্তমানে বিদ‌্যমান ক‌্যাপাসিটির চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বেশি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মোঃ খলিলুর রহমান, বিটিআরসি’র ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ এবং টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুর রহমানসহ ডাক ও টেলিযোগযোগ বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।