ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৭, ২০২২ , ৯:২০ অপরাহ্ণ

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান, সংগৃহীত চিত্র।

মৌলভীবাজার, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি আমাদের দেশের সুদীর্ঘকালের সামাজিক ঐতিহ্য। ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য রক্ষায় আমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে ধর্মীয় উস্কানিতে কোনোমতেই অংশগ্রহণ করা যাবে না। প্রতিমন্ত্রী মঙ্গলবার মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ সভাকক্ষে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতামূলক আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো অশুভ শক্তি যেন ধর্মের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে সে বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সারা দেশে ৫৬৪ টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের স্থায়ী মূলধন ২১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই প্রথম সমগ্র দেশে মন্দির ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২৬২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সারাদেশে ২ হাজার ৩শত ৫১টি মঠ, মন্দির, শ্মশান সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি কর্মসূচির অধীনে শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ও শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরসহ চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় মোট ১৯৯টি মঠ, মন্দির, শ্মশান সংস্কারের জন্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ঈদগাহ, কবরস্থান, শ্মশান সংস্কার ও মেরামত বাবদ বিগত ১৪ বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের সভাপতিত্বে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সচেতনতামূলক আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য নেছার আহমেদ ও সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকারিয়া, সিলেট ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপপরিচালক শাহ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়। এছাড়া মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, খতিব, ইমাম, পুরোহিত, সেবাইত, শিক্ষক প্রতিনিধি, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক প্রতিনিধিগণ সংলাপে অংশগ্রহণ করেন।