বেগমগঞ্জে উদ্ধার হচ্ছে বিলুপ্ত প্রায় প্রাণী: প্রকৃতিতে নতুন বার্তা

প্রকাশিত : জুন ২৫, ২০২২ , ১:১৭ অপরাহ্ণ

ঈগল

ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিককালে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী। দেশ থেকে বিলুপ্তির পথে মেছো বাঘ, ঈগলসহ এ সব প্রাণী উদ্ধার হওয়ায় প্রকৃতি দিচ্ছে নতুন বার্তা আর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। বিলুপ্ত প্রায় পরাণিগুলো রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করছে বেগমগঞ্জের উপকূলীয় বন বিভাগ। সম্প্রতি বেগমগঞ্জের কুতুবপুর ও চন্দ্রগঞ্জ থেকে দুটি মেছো বাঘ উদ্ধার করা হয়। মুরগির খামারে খাবারের সন্ধানে আসলে স্থানীয়রা কৌশলে বাঘ দুটিকে আটক করে বনবিভাগে হস্তান্তর করে। এমন মেছো বাঘ বিগত ৫০ বছরেরও এলাকায় দেখা যায়নি বলে

মেছো বাঘ

জানায় স্থানীয়রা। কুতুবপুর কেপিএম পোল্ট্রি ফার্মের মালিক আবদুর রহিম জানান, আমার খামারে প্রায় সময় কি যেন মোরগ খেয়ে ফেলত। আমি চিন্তিত হয়ে ওই প্রাণীকে আটক করার পরিকল্পনা করি। সেই মতে আমি সূক্ষ্ম ভাবে দরজা লাগানো একটি খাঁচা তৈরি করে সেখানে মোরগ রাখি। কিছু দিন যাওয়ার পর ওই খাঁচার ভেতর মোরগ খেতে গিয়ে বড় একটি মেছো বাঘ সেই খাঁচায় আটক পড়ে। আমরা বনবিভাগকে খবর দিয়ে সেখানে হস্তান্তর করি। কুতুবপুর ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাফেজ জাফর উল্যাহ স্বপন জানান, পোল্ট্রি ফার্মে মুরগি খেতে আসলে ফার্মের মালিক রহিম খাঁচা দিয়ে কৌশলে মেছো বাঘটিতে আটক করে। বিগত ৫০ বছরেও আমাদের এলাকায় এমন মেছো বাঘ দেখা যায়নি বলে জানান এই ইউপি সদস্য। একই সময় উপজেলার জমিদারহাট থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিলুপ্ত প্রায় একটি ঈগল পাখি। যা গত তিন দশকেও এ অঞ্চলে দেখা যায়নি। স্থানীয়রা এটিকে আটক করতে গিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরে বন বিভাগের লোকজন খবর পেয়ে ঈগলটিকে উদ্ধার ও চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে মুছাপুর বনে অবমুক্ত করে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মারুফ রিজভী তালুকদার জানান, লোকজন স্থানীয় কৌশল প্রয়োগ করে প্রাণীগুলোকে আটক করায় এগুলো প্রায় সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমাদের কাছে বন বিভাগের লোকজন বা স্থানীয়রা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে আসলে প্রাণীগুলোকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে আমরা আবার বনবিভাগকে হস্তান্তর করি। বেগমগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা শামছুদ্দিন জানান, কোথাও বিলুপ্ত প্রায় কোন প্রাণী আটক হওয়ার খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমরা সেগুলোকে উদ্ধার করে চিকিৎসার পর সুস্থ হলে মুছাপুর, নিঝুম-দ্বীপের বনসহ নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করি। আমরা বন্য প্রাণীগুলোকে বাঁচাতে তৎপর রয়েছি। বিলুপ্ত প্রায় কোন প্রাণী ধরা পড়লে না মেরে বনবিভাগকে খবর দেয়ার আহবান জানান তিনি।