চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানির পশু

প্রকাশিত : জুন ২৬, ২০২২ , ১০:০৩ অপরাহ্ণ

জেলায় কুরবানীযোগ্য পশু ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন:আসন্ন কোরবানি ঈদে পছন্দমত পশু কেনার জন্য হাট-বাজারে ছুটোছুটি করছেন জেলার কোরবানি দেয়ার মত সামর্থবানরা। কোরবানি ঈদের চাঁদ উঠলেই কোরবানির পশুর দাম বেড়ে যাওয়ার আশংকায় অনেকেই পশু কিনে নিয়েছেন। অনেকেই এ হাট ও হাট ঘুরে দেখছেন পশুর দামের বিষয়টি। দামের সাথে মিললেই কিনে নিচ্ছেন কোরবানির পশু। তবে এবছর কোরবানি গুরু-ছাগলের দাম অনেকটায় চড়া। বড় গুরু-ছাগলের চেয়ে ছোট পশুর দাম অনেক বেশী। দাম বেশী হওয়ায় ছোট পশুর দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা। সব মিলিয়ে সাধ্যমত দামে কোরবানির পশু কিনে কোরবানি করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ। তাই, কোরবানির ঈদকে ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও কোরবানির পশু তৈরি ও মোটাতাজাকরণ করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষক ও খামারিরা। দেশের বিভিন্নস্থানে বন্যা হওয়ায় আকাঙ্ক্ষিত দাম নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা। স্থানীয় প্রাণী সম্পদ বিভাগ সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে যেগুলো কোরবানি যোগ্য পশু আছে, স্থানীয় ভাবে কোরবানির চাহিদা মেটাবে। চাহিদার চেয়ে কোরবানির যোগ্য পশুগুলো বাইরের জেলা গুলোতে সরবরাহ করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রাণী সম্পদের তথ্য মতে, এ বছরে ১১ হাজার ৫৪৯ টি খামারে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬১৫টি কুরবানি যোগ্য পশু তৈরি করছেন খামারিরা। জেলায় মোট গরু-মহিষ আছে ৮৮ হাজার ৪৭৬টি, আর ছাগল-ভেড়া আছে ৭৭ হাজার ১৩৯টি। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩২৩৫টি খামারে কুরবানি যোগ্য গরু-ছাগল আছে ৭৭ হাজার ৮২২টি, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার ৫৭৬ টি খামারে পশু আছে ৩৫ হাজার ১২৫টি, নাচোল উপজেলায় ৭৩৩টি খামারে ৯ হাজার ৮৩৫টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৯৭৫ টি খামারে ২৯ হাজার ৭৩৪টি, আর ভোলাহাটে ১ হাজার ৩০ টি খামারে ১৩ হাজার ৯৯টি গরু-ছাগল কুরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। এবছর কোরবানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৩ টি। খামারি মুনিরুল ইসলাম বলেন, দেশের দক্ষিণের প্রায় জেলাগুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে। আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সে অঞ্চলের ব্যাপারীরা গরু কিনে নিয়ে যায়। কিন্তু কোরবানির ঈদ কাছিয়ে আসছে, তাদের কোন খবর নেই। তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু তারা এবার গরু কিনতে আসবেন কিনা সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। বাহিরের জেলার ব্যাপারীরা না আসলে সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে খামারিদের ভুগতে হবে। গরুর খামারি এসএম কামাল বলেন, বন্যার আগে থেকেই গোখাদ্যের দাম বেশি। দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা হওয়ায় আরও বেড়ে গেছে গোখাদ্যের দাম। আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে খৈল, ভুষি, খড় কিনতে হচ্ছে। এমন করে চলতে থাকলে গরুর ন্যায্য দামও পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার কোরবানির ঈদে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫২ হাজার ২২২ টি পশু বেশি আছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে কোরবানি যোগ্য এসব পশু গুলো বাহিরের জেলাগুলোতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।