দেশে প্রথম বিদেশী প্রযুক্তিতে আম চাষ: কৃষকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে গাছ

প্রকাশিত : আগস্ট ২৮, ২০২২ , ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

মোঃ আশরাফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: আমচাষের উপর সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ থাকবে চাষির। গাছের উচ্চতা হবে একটি মানুষের সমান। ফলে পরিচর্যাও করা যাবে ইচ্ছেমত। উচ্চতা কম হওয়ায় গাছে আসা ১০০ শতাংশ আমেই ফ্রুট ব্যাগিং করা সম্ভব। গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস বা গ্যাপ অনুযায়ী আম চাষাবাদ হওয়ার কারনে এই আম সম্পূর্ণ বিদেশে রফতানি উপযোগী। এছাড়াও আমবাগানের প্রতি ইঞ্চি জায়গা ব্যবহার করা সম্ভব ইসরায়েলের প্রযুক্তি আলট্রা হাইডেনসিটি (অতি ঘন পদ্ধতি) পদ্ধতিতে৷ সাধারণত চিরাচরিত নিয়মে এক বিঘা আম বাগানে কৃষি বিভাগ ১.৩ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। সেখানে বিদেশি উদ্ভাবিত প্রযুক্তি আলট্রা হাইডেনসিটি পদ্ধতিতে বিঘাপ্রতি আমের উৎপাদন হবে ৫ টন করে। ইসরায়েলের এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমচাষে সফলতা পেয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষী ও রফতানি-কারক ইসমাইল খান শামীম। তিনি শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রোডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিডেটের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খান শামীম। থাইল্যান্ডের বিভিন্ন বাগান পরিদর্শন ও ভারতের তামিলনাড়ু– প্রদেশের কয়েমবাটরের জেইন এগ্রোর বিভিন্ন বাগান পরিদর্শন করে ইসমাইল খান শামীম তিন বছর আগে শিবগঞ্জের একাডেমী মোড়ে প্রতিষ্ঠা করেন এই বাগান। তিনি ইসরায়েলের আলট্রা হাইডেনসিটি পদ্ধতি অনুসরণ করে ও সেচের ক্ষেত্রে দেশীর পদ্ধতি ব্যবহার করে গড়ে তুলেছেন ৪ বিঘার বাগান। সেখানে বারোমাসি কাটিমন জাতের প্রায় ১ হাজার আমগাছ রয়েছে। মাত্র তিন বছরেই এখন তার বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে আম। আলট্রা হাইডেনসিটি পদ্ধতিতে একই পরিমাণ জমিতে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি গাছ রোপণ করা যায়। ফলে ফলন হয় তিনগুণ বেশি। ইসরায়েলের এই আলট্রা হাইডেনসিটি পদ্ধতিতে দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আম উৎপাদন হলেও বাংলাদেশে এই প্রথম এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আম চাষ শুরু করেছেন ইসমাইল খান শামীম। ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ড ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে, সুইচ-কন্টাক্ট ও স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডি) যৌথ বাস্তবায়নে আলট্রা হাইডেনসিটি পদ্ধতিতে আম চাষের উদ্ভাবনী দিকগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আমচাষী ইসমাইল খান শামীম বলেন, ভারতের তামিলনাড়ু ও ফিলিপাইনে কোকাকোলার ম্যাংগো প্রজেক্ট দেখে ইসরায়েলের আলট্রা হাইডেনসিটি পদ্ধতিতে আম চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। সেই থেকে তিন বছর আগে এই বাগান চাষ শুরু করি। কিন্তু বিদেশী এই প্রযুক্তির একটি অংশ ডিপ ইরিগেশন আমি বাদ দিয়েছি। কারণ আমাদের এই এলাকায় এতো বেশি পানির প্রয়োজন হবে না এবং ডিপ ইরিগেশনে অনেক বেশি খরচ হবে। যা ৪ বিঘার একটি আম বাগানে প্রায় লাখ টাকার মতো। তাই বিদেশী আলট্রা হাইডেনসিটি পদ্ধতির সাথে এখানে শুধুমাত্র সেচের ক্ষেত্রে দেশীয় পদ্ধতিকে যুক্ত করেছি।