আর স্বপ্ন নয় প্রত্যাশিত পদ্মা সেতু

প্রকাশিত : জুন ২২, ২০২২ , ৯:২৮ অপরাহ্ণ

২০১৬ সালে ঢাকায় ২১’এর বইমেলায় নজরুল মঞ্চে “ইতিহাসের পাতা থেকে” বইয়ে প্রকাশিত আমার লেখা

আবদুল জব্বার

বিশ্ব ব্যাংক নয় অন্য কোনো দাতা সংস্থার সাহায্যেও নয়। বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রত্যাশিত বহুমুখী স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এ বিষয়টি বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও নির্মাণ পরিকল্পনা। বিদেশ থেকে যে সমস্ত উন্নত যন্ত্রপাতি বৈদেশিক মুদ্রায় আনা হচ্ছে তার অর্থায়নে সহায়তা করেছে অগ্রণী ব্যাংক। দেশের বৃহত্তম এই সেতু নির্মাণে ৩ হাজার নির্মাণ শ্রমিক, দেশী বিদেশী প্রকৌশলী অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে নিরলস-ভাবে কাজ করে চলেছে।
দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, শরিয়তপুর, মাদারীপুর ও বাগেরহাটসহ ২১টি জেলার সড়ক যোগাযোগের অন্তরায় ছিল এ সেতু। এ অঞ্চলের লক্ষ কোটি মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয়ের মাসে গত ১২ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর পাইলিং ও নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন। ২০১৮ সালের মধ্যে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে রাজধানী ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে সড়ক পথে যুক্ত হবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জনপদের। এই সেতু দিয়ে ট্রেনও চলবে। এশিয়ান হাইওয়ের রুট হিসেবে ও ব্যবহার করা হবে এই পদ্মা সেতু ।
বিগত ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে বিরোধীদল বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেতু নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এসে সেতু নির্মাণের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের সাথে চুক্তি করে। বিশ্ব ব্যাংকও পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়নে এগিয়ে আসে। এরপর আকস্মিকভাবে বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণে ৯ হাজার ৬শত কোটি টাকা দুর্নীতির ষড়যন্ত্র চলছে বলে সেতু নির্মাণে অভিযোগ করেন। আশ্চর্য-বিষয় বিশ্ব ব্যাংক যখন সেতু নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন তখন পর্যন্ত পদ্মা সেতু নির্মাণে কোনো অর্থই ছাড় দেয়া হয়নি। এখানে প্রশ্নটা হলো তাহলে দুর্নীতিটা হলো কোথায় ? আজ পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাংক প্রমাণ করতে পারেননি দুর্নীতিটা হয়েছে কোথায়। এ বিষয় নিয়ে কানাডায় মামলা হয়েছে। কানাডার আদালত বিশ্ব ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে পদ্মা সেতু নির্মাণে কী কী দুর্নীতি হয়েছে তা আদালতকে জানাতে। বিশ্ব ব্যাংক এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি কানাডার আদালতকে। অথচ বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট তাঁর শেষ কর্ম দিবসে পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন।
এরপর আওয়ামীলীগ সরকার দেশের বৃহত্তম এই বহুমুখী পদ্মা সেতু নির্মাণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন। সরকার নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণে ঘোষণা দিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছিলেন, যেহেতু বর্তমান সরকার এ কাজ শুরু করেছিলেন তা শেষও করা হবে। আমি বিগত ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে এ বিষয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম। নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল “বর্তমান সরকারের উদ্যোগেই পদ্মা সেতু নির্মিত হোক এটাই জাতির প্রত্যাশা”। যা দেশের জাতীয় দৈনিক, অনলাইন পত্রিকাসহ পাবনার বেশ কিছু স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। আমার লেখায় আমি বলেছিলাম, বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকাণ্ড এবং আমাদের দেশের দু’জন সাবেক অর্থমন্ত্রীর সততার পরীক্ষার কথা। আমি পাঠকদের উদ্দেশ্যে ওই লেখার অংশ বিশেষ তুলে ধরলাম।
বিশ্ব ব্যাংকের তৎকালীন ডাকসাইটে প্রেসিডেন্ট রবার্ট এস ম্যাক-নামারা একাত্তর সালে আমাদের দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সফরে এলে তাঁর সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজসভা দেওয়ার প্রস্তাবে আপত্তি ছিল সদ্য স্বাধীন দেশের অর্থমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদের। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সে সময়ের ডেপুটি চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ নুরুল ইসলাম তাঁর ‘মেকিং অব দা ন্যাশন’ বইতে বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। ২০১২ সালের ১ জুলাই রাতে একটি টেলিভিশন টক শোতে প্রসঙ্গটির সূত্র ধরে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং সাবেক কেবিনেট ও অর্থ সচিব আলী আকবর খান বলেছেন, বিশ্ব ব্যাংকের আধিপত্য অস্বীকার করার জন্য দৃঢ় নেতৃত্বের দরকার। ম্যাকনামারাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে যাওয়ার প্রস্তাবেও রাজি হননি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদ। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন জন্য তখন ৩শ কোটি (তিন বিলিয়ন) ডলারের খুবই প্রয়োজন ছিল। সেই নিঃস্ব অসহায় অবস্থায়ও যুদ্ধজয় স্বাধীন একটি দেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিজের ও দেশের মর্যাদার কথা মাথায় রেখেছিলেন জাতীয় বীর তাজ উদ্দিন আহমেদ। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর দেশের অর্থনীতি অনেকদূর এগিয়েছে। আর ততটাই পিছিয়েছে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মর্যাদা বোধ। নাম সর্বস্ব গভর্নর হিসেবে প্রতিবছর মানুষ ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের বোর্ড মিটিংয়ে হাজির হয়ে সাহায্যের জন্য হাত পাতা বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীদের অন্যতম নির্ধারিত কাজ। দেশে ফিরে এসে অবশ্য প্রয়াত দুই অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ও শাহ এ এস এম কিবরিয়া বলতেন, ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিদেশে যেতে ভাল লাগেনা। তবুও এ কাজটি থেকে কোনো অর্থমন্ত্রীই বিরত থাকেন নি। অবসর গ্রহণের পর অর্থনৈতিক আমলারা টিভি টকশোতে যতটা জোরের সঙ্গে কথা বলে সহজে সব দায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর চাপিয়ে দেন। চাকুরীতে থাকাকালীন সময়ে তাদের বেশীর ভাগই নিয়মসিদ্ধ ও বিধিবদ্ধ কাজের বাইরে যাননি। আমি ওই লেখায় আরও বলেছিলাম, সাবেক এক অর্থনৈতিক আমলা তার ইআরডিতে (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেছেন, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন কোন ব্যক্তির পক্ষেই ইআরডিতে বেশী দিন কাজ করা সম্ভব নয়। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশের মানুষ গত বছরের চেয়ে ২২ হাজার কোটি টাকা বেশী কর রাজস্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের আকার এখন ১ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা। পদ্মা সেতু তৈরির জন্য ২৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এ অর্থ দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেই জোগাড় করা সম্ভব, সে কথা দেশের বিশিষ্ট-জনেরা বারবারই বলছেন। তারা বলে আসছেন, পদ্মা সেতুর মতো অবকাঠামো নির্মাণে যোগ্য মেধা, প্রযুক্তি ও অর্থ দেশেই আছে, প্রয়োজন কেবল সাহসের।
আমি আমার লেখায় মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সকল রাজনৈতিক দল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল মহলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষে জাতির প্রত্যাশা পূরণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা জানি প্রতি বছর বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ ডুবিতে শতশত মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বিশেষ করে ঈদের সময়গুলিতে লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করার কারণে এই লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে। পদ্মা সেতু নির্মিত হলে এ সমস্ত নৌ-দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবে দক্ষিণাঞ্চলের লক্ষ কোটি মানুষ। এছাড়াও এমনিতেই প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডোর মতো ভয়াবহ আবহাওয়া জনিত ঘটনার সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ।
রেলপথ নির্মাণ করতে ৮২ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপন করতে হবে। রেললাইন স্থাপনে ৮৩টি ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। তার মধ্যে বড় ব্রিজ ২৭টি এবং ছোট ব্রিজ ৫৬টি। এছাড়াও বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীতে নির্মাণ করতে হবে ২টি ব্রিজ। রেললাইনে ৭টি স্টেশন নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রেললাইন স্থাপনে এখন পর্যন্ত কোনো জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। পদ্মাসেতু নির্মিত হলে সেতুর দুই পাশে গড়ে উঠবে শিল্প-নগরী। রেশম শিল্পের বিকাশ ঘটাতে নেয়া হবে ব্যাপক পরিকল্পনা। গড়ে উঠবে পর্যটনকেন্দ্র। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সেতু নির্মাণের কাজে এখন ব্যয় হবে ২৫ হাজার কোটি টাকা। দেশের রিজার্ভ এখন ২৭ বিলিয়ন ডলারের উপরে। দেশের অর্থনীতিবিদদের মতে পরিকল্পনা কমিশন এখন বলতে পারে যদি ১শত মিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনা থাকে তাহলে সে কাজে বিদেশের কাছে হাত পাততে হবেনা। চলতি আর্থ বছরে দেশের উন্নয়ন বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার শত কোটি টাকা।
বাঙালির ইতিহাস বীরত্ব-গাঁথার ইতিহাস। অতীতে আমাদের দেশের বীর-বিপ্লবীরা জীবন দিয়েছে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ৬৯’এর গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ আত্মাহুতি দিয়েছেন। ৩ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের দেশের জন্য আজ বড় অর্জন। বিভিন্ন সময় আমরা শুনেছি। একদিন রাজধানীতে মেট্রোরেল হবে। যানজটের নিরসনের জন্য ফ্লাইওভার হবে। কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মিত হবে। এ সমস্ত বিষয়গুলো আমাদের দেশের মানুষের কাছে একদিন স্বপ্নের মতো মনে হতো। বহু প্রত্যাশিত এ স্বপ্নগুলো এখন বাস্তবায়ন হতে চলেছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে এক সময় মঙ্গা হতো। মঙ্গার সময় উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুরসহ অন্যান্য জেলাগুলোর মানুষ বছরের ৬ মাস অর্থাভাবে অনেক কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করতো। সেখানকার মানুষ এখন এক ফসলী জমিতে দ্বি-ফসলী চাষাবাদ করছে। এছাড়াও বর্তমানে সেখানে প্রচুর সবজি চাষ হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মিত হওয়ার পর উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর চাষীরা সবজিসহ অন্যান্য মালামাল সরাসরি রাজধানী ঢাকায় সরবরাহ করতে পারছে। যার ফলে পাল্টে গেছে উত্তরাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা। আমাদের দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এক সময় বিদেশী ঋণ সহায়তার উপর নির্ভর করতে হতো। আজ সে অবস্থা পাল্টে গেছে। এটা সম্ভব হচ্ছে বর্তমান সরকারের সৃষ্টিশীল পরিকল্পনা এবং সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে।
বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু সর্বশেষ বাংলাদেশে এসেছিলেন ১৯৯২ সালে। তখন রাজধানীর সড়কগুলোতে যানজট ছিলো না। দীর্ঘদিন পর গত ১২ ডিসেম্বর আবার বাংলাদেশে আসেন তিনি। এবার তিনি রাত ১০টার পরও রাজধানীতে যানজট দেখতে পান। তাঁর মতে, রাস্তায় অনেক গাড়ি চলছে, এটা অর্থনৈতিক সক্ষমতারই একটি বার্তা। আর এই যানজট অর্থনীতির নতুন সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। উন্নয়নের প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকেই এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। পরদিন গত ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত লোক-বক্তৃতায় তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নকে এভাবেই তুলে ধরেছেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৫ সালে মাথাপিছু আয়, জিডিপির অনুপাতে বিদেশী বিনিয়োগ ইত্যাদি খাতের অগ্রগতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছেন। নোবেল বিজয়ী বাঙালি ড. অর্মত্য সেনের কীর্তিমান ছাত্র প্রথিতযশা এই বাঙালি অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু আরও বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন উড়ন্ত সূচনার পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগ বাড়লে প্রবৃদ্ধি হবেই। মোট দেশজ (জিডিপি) ২৯ শতাংশের সমপরিমাণ বিনিয়োগ হচ্ছে। এটা সুন্দর ভবিষ্যতের একটি সংকেত। বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কৌশিক বসু পূর্বাভাস দিয়ে বলেছেন, চলতি বছর বাংলাদেশ সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। আগামী বছর তা ৬ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হবে, যা চীনের সমান। এ তুলনা ৫-১০ বছর আগে চিন্তা করাও দুরূহ ছিল। তিনি বলেছেন, এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না শিগগিরই এশিয়ার নতুন বাঘ হিসেবে আবির্ভূত হবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন-কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ লোক-বক্তৃতার বিষয়বস্তু হলো, ‘বিশ্ব অর্থনীতি, বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা : সমস্যা ও সম্ভাবনা’। কৌশিক বসু আরও বলেছেন, বাংলাদেশ এখন জনসংখ্যা বোনাসের যুগে প্রবেশ করেছে। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষম তরুণ-তরুণী শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ জনসংখ্যা বোনাসের সুযোগ নিতে এর ব্যবস্থাপনার দিকে মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর এখন জাতি হিসেবে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার দুর্লভ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতাসীন সরকারকে স্মরণ রাখতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দল ও মহলকে ঐক্যবদ্ধ করে ৭২’এর সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শহীদদের স্বপ্ন-পূরণে প্রত্যাশিত সোনার-বাংলা গড়ার এখনই উপযুক্ত সময়। লেখক: বীর-মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।