খেলা দেখতে যেতে না দেওয়ায় বিষপান করা সেই কিশোরের দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২২ , ১০:০৯ অপরাহ্ণ

বিধান দাস, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: রবিবার(১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল ডি.কে কলেজ মাঠে মুখোমুখি হয় ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের ব্যারিস্টার সুমন ফুটবল একাডেমি ও সোহেল রানা (এসআরএফসি) ফুটবল ক্লাবের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। সে খেলা দেখতে বালিয়াডাঙ্গী থেকে ছুটে যায় কিশোর লোকমান (১২)। খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে শাসন করলে সে পরিবারের লোকজনের সাথে অভিমান করে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে সেই কিশোরকে হাসপাতালে দেখতে রাতেই ছুটে যান ব্যারিস্টার সুমন। এসময় লোকমানের খেলাধুলা ও পড়াশোনার যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নেন ব্যারিস্টার সুমন। রোববার রাত সাড়ে ১১টায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই কিশোরকে দেখতে যান ব্যারিস্টার সুমন। এ সময় তিনি কিশোরের দাদির হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন এবং কিশোরের পড়াশোনার সকল দায়িত্ব বহনের কথা জানান। জানা যায়, ব্যারিস্টার সুমন ফুটবল একাডেমির ফুটবল খেলা দেখতে যেতে দুই’শ টাকা চেয়েছিল লোকমান তার পরিবারের কাছে। খেলা দেখতে যেতে তাকে পরিবারের কেউ টাকা না দেওয়ায় সে লুকিয়ে ২০০ টাকা নিয়ে খেলা দেখতে যায়। পরে খেলা শেষে সন্ধ্যাবেলা বাড়িতে ফিরলে পরিবারের সদস্যরা তাকে বকাবকি করে। তখন সে সবার অগোচরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। লোকমান উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের রত্না বারসা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। কিশোরের দাদি হাসিনা বেগম বলেন, ‘ব্যারিস্টার সুমনের খেলা দেখতে যাওয়ার জন্য ২০০ টাকা চায় লোকমান। আমরা টাকা না দেওয়ায় লুকিয়ে ২০০ টাকা নিয়ে সে খেলা দেখতে যায়। পরে খেলা শেষে সন্ধ্যাবেলা বাড়িতে ফিরলে আমি ও তার ফুপুরা বকাবকি করি। এতে সে সবার অগোচরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। লোকমানের নানা খোরশেদ আলম বলেন, নাতিটা ব্যারিস্টার সুমনের খেলা দেখতে যাওয়ার জন্য টাকা চেয়েছিল। তার বাবা-মা টাকা দেয়নি। সে খেলা দেখার জন্য বাসা থেকে চুরি করে ২০০ টাকা নিয়ে যায়। তাকে একারণে বকাবকি করা হলে সে বিষ খেয়েছে। সেটা জানার পর আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন সে এখন শঙ্কামুক্ত। লোকমানের দুলাভাই মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে লোকমান ফুটবল খেলার ভক্ত। কোথাও খেলা হলে তাকে ধরে রাখা যায় না।’ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সঞ্জিব কুমার রায় জানান, বর্তমানে লোকমানের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।’ ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের জানান, ‘লোকমানের চিকিৎসার জন্য বর্তমানে আমরা ১০ হাজার টাকা তার পরিবারকে দিয়েছি ও পরবর্তীতে তার পড়াশোনার জন্য ও খেলাধুলার খরচ আমাদের একাডেমি বহন করবে।, এ ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আসলে এই বয়সে ছেলে মেয়ে গুলো একটু অভিমানী হয়। কিন্তু তাও এবিষয়টিতে আমার খুব খারাপ লেগেছে। এটা তার পরিবারেরও দোষ না। কারণ তার পরিবার খুব দরিদ্র তাই টাকা দিতে পারেনি। আমরা যদি সুস্থ ধারার কাজ করে সমাজটাকে গড়তে পারি ও ভালো কাজ করি তাহলে অবশ্যই মানুষের সারা পাওয়া যাবে।, তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের প্রশংসা করে আরও বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে এসে আমার এতো ভালো লেগেছে যে আমি অনেক জেলা ঘুরে বেড়িয়েছি কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের মতো এতো ভালো মানুষ কোথাও দেখিনি ও পাইনি। প্রসঙ্গত,খেলায় সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে আসা ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন ফুটবল একাডেমি বনাম রাণীশংকৈল কাশিপুর সোহেল রানা ফুটবল ক্লাবের হাই-ভোল্টেজ খেলায় সোহেল রানা ফুটবল ক্লাব ৩-১ গোল করে সুমন ফুটবল একাডেমিকে পরাজিত করে রাণীশংকৈল সোহেল রানা ফুটবল ক্লাব। খেলা দেখতে মাঠের চারপাশে প্রায় অর্ধলক্ষ দর্শক জমায়েত হয়। এ সময় দেখা যায় কলেজ ভবনের বারান্দায় ও ছাদে সহ টিনের চালে গাছের ডালে এবং মাঠের চারপাশে অসংখ্য ফুটবল প্রেমী মানুষ এক সাথে জড়ো হয়। এতে মঠের চার পাশে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।