আবদুল মালেক উকিলের ৩৫তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৮, ২০২২ , ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

ইয়াকুব নবী ইমন, নিজস্ব প্রতিনিধি, নোয়াখালী, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার আবদুল মালেক উকিলের ৩৫তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সোমবার ৯টায় নোয়াখালীতে কোর্ট মসজিদের সামনে মরহুমের কবর জিয়ারত, কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, মিলাদ মাহফিল করা হয়েছে। এ সময় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও মরহুমের ভাতুস্পুত্র এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন, মরহুমের জ্যৈষ্ঠ পুত্র ও জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য গোলাম মহি উদ্দিন লাতু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মোজাম্মেল হক মিলন, সাবেক অধ্যক্ষ কাজী মোঃ রফিক উল্যাহ, অধ্যাপক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া, এডভোকেট জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, এডভোকেট আলমাস খান সহ প্রমুখ। এছাড়া মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিন ব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে মরহুমের নামে প্রতিষ্ঠিত বাঁধের হাটে আবদুল মালেক ডিগ্রি কলেজের মিলাদ মাহফিল, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া, আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজে মিলাদ ও দোয়া ও বিকেলে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে মিলাদ ও মাইজদী গার্লস একাডেমি হাই স্কুল এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন রয়েছে। মরহুমের জ্যৈষ্ঠ পুত্র ও জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য গোলাম মহি উদ্দিন লাতু বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর জননেতা আবদুল মালেক উকিলের মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত উত্তোলন, । বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাধেরহাট আবদুল মালেক উকিল ডিগ্রি কলেজ, আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ, মাইজদী গার্লস একাডেমি হাই স্কুল এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন রয়েছে। এছাড়া মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিন ব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য আবদুল মালেক উকিল ১৯৫৩ সালে নোয়াখালী সদর মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬২-৬৪ সময়কালে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে ছিলেন। আবদুল মালেক উকিল ১৯৫৬, ১৯৬২ এবং ১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নোয়াখালী থেকে সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন।
১৯৭২ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রীসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন নোয়াখালী-১২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং নতুন মন্ত্রীসভায় তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে তিনি জাতীয় সংসদের স্পীকার নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দলের দুঃসময়ে ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত আবদুল মালেক উকিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
আব্দুল মালেক উকিল ১৯২৪ সালের ১ অক্টোবর নোয়াখালী জেলার সুধারামের রাজাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৭ সালের ১৭ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।