ঠাকুরগাঁওয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১১ মেম্বারের অনাস্থা

প্রকাশিত : জানুয়ারি ২, ২০২৩ , ৭:৪২ অপরাহ্ণ

বিধান দাস, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: মেম্বারদের মূল্যায়ন না করা, সরকারি উপকার-ভোগী বাছাইয়ে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ করা ও এককভাবে পরিষদ চালানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টেলিনা সরকার হিমুর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন পরিষদের তিন নারী সদস্যসহ ১১ জন ইউপি সদস্য। রবিবার বিকালে এ আবেদন করেন তারা। আবেদনের অনুলিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রোজিনা পারভিন, সামিআরা বেগম, সাধিকা বালা, ফারুক হোসেন, শাহজাহান আলী-১, বাবুল হক, আমিনুল ইসলাম, রেজাউল করিম, গোলাম রব্বানী, আনোয়ার হোসেন এবং শাহজাহান আলী-২ এর স্বাক্ষরিত আবেদনে জানা যায়, জানুয়ারি’২২ হতে দায়িত্ব গ্রহণের পর হতে অদ্যাবধি পরিষদের মাত্র একটি মাসিক সভা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় বাশতলী খেয়াঘাট ইজারার খরচ পিপিআর/২০০৮ এ্যাক্ট অনুযায়ী হয়নি এবং ইজারার তিন লক্ষ ষাট হাজার টাকা ব্যাংকে জমা করা হয়নি। হাট-বাজার ইজারার হতে প্রাপ্ত অর্থ এবং জানুয়ারি’২২ হতে অক্টোবর’২২ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদের আয়ের পাঁচ লাখ নিরানব্বই হাজার চার’শ পঁয়ষট্টি টাকা কোন প্রকার ব্যাংক লেন দেন ছাড়াই চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করেছেন। খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর এক হাজার দুইশ উনত্রিশ জন সুবিধাভোগীর তালিকা অন লাইন করার জন্য কার্ড প্রতি ৫০ টাকা করে উদ্যোক্তা আনছারুলের মাধ্যমে মোট একষট্টি হাজার চার’শ পঞ্চাশ টাকা চেয়ারম্যান উৎকোচ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কোন সভা ছাড়াই চেয়ারম্যান এককভাবে সামাজিক বেষ্টনীর আওতায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচীর সুবিধা ভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করেছেন। কার্ড প্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়ে কোন সভা না করেই ভিডব্লিউবি (ভালনারেবল ইউমেন বেনেফিট) কার্যক্রমের আওতায় ১ জানুয়ারি ২০২৩ হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ চক্রের উপকার-ভোগীর তালিকা করেছেন চেয়ারম্যান।
সরকারি ভাবে উপজেলা পরিষদ হতে বরাদ্দকৃত বিভিন্ন ধরনের মালামাল তিনি একাই উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন। মেম্বার ফারুক হোসেন জানান, চেয়ারম্যানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাত বিষয়ে গত ৫ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ১১ মেম্বার লিখিত আবেদন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যান টেলিনা সরকার পরিষদের মেম্বারদের গালিগালাজ সহ নানা প্রকার হুমকি ধমকি দেন। সার্বিক বিষয় নিয়ে গত শনিবার পরিষদের ১১ জন মেম্বার সভা করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সর্বসম্মত ভাবে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। অভিযোগ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান টেলিনা সরকার হিমু মোবাইল ফোনে বলেন, অনাস্থা প্রস্তাব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বিস্তারিত সাক্ষাতে বলবেন বলে জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার নজির বলেন, মেম্বারদের একটা অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এর মধ্যেই আবারও তাদের আরও একটি আবেদন পাওয়া গেছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।