পেশায় নরসুন্দর হলেও সেলুন থেকেই চালাতেন ছিনতাই চক্র

প্রকাশিত : নভেম্বর ৫, ২০২২ , ৫:৩৩ অপরাহ্ণ

ময়মনসিংহ ব্যুরো, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকায় অটোরিকশা চালক মোঃ নাছির উদ্দিন (৪৫)কে হত্যা করে অটোরিকশা ও মোবাইল সেট ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতারের পাশাপাশি ছিনতাইকৃত অটোরিকশা ও মোবাইল সেট উদ্ধার করেছে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। সেইসাথে পেশায় নরসুন্দর হলেও মকবুল হোসেন (৫৫) নামের এই হত্যাকাণ্ডের মুলহোতা তার নিজ সেলুনে চুল কাটার আড়ালে সেলুনে বসেই অটোরিকশা ছিনতাই চক্র চালাতেন বলেও জানান জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঁঞা। শনিবার (০৫ নভেম্বর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঁঞা। তিনি আরও জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অটোরিকশা ছিনতাই করে আসছিলেন। এর আগে এক অটোরিকশা চালক হত্যার মূল হোতা মকবুলসহ ৫ জনকে গ্রেফতারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। নিহত নাছির উদ্দিন গফরগাঁও উপজেলার ৮নং গফরগাঁও ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের মৃত মোঃ আব্দুর রহিমের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলেন পাগলা থানার দত্তের বাজার ইউনিয়নের কন্যামন্ডল আদর্শ গ্রামের মৃত মোঃ হযরত আলীর ছেলে মোঃ মকবুল হোসেন (৫৪), কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার ছোট আজলদি ধামর বাড়ীর মোঃ আবুল হাসেমের ছেলে মোঃ জাবেদ (২৪), ছোট আজলদি কোণাপাড়ার মৃত সুরুজ আলীর ছেলে মোঃ কাজল মিয়া (৫৯), সম্মানিয়া গ্রামের মোঃ আহছান উল্লাহ র ছেলে মোঃ শরীফ (৩২) ও হাছেন উল্লাহর ছেলে মোঃ সোহেল মিয়া (২২)। মকবুল বাদে অন্য চারজন কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার বাসিন্দা। পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঁঞা গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলেন, গ্রেফতারকৃতরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৯ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে গফরগাঁওয়ের জামতলা চৌরাস্তা থেকে হোসেনপুর যাওয়ার কথা বলে নাছির উদ্দিনের অটোরিকশায় উঠে৷রাত পৌনে ৯টার দিকে হোসেনপুর ব্রিজের কাছে পৌঁছলে চালকের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর ছিনতাইকারীরা ঝোপের আড়ালে মরদেহ ফেলে তার অটোরিকশা ও মোবাইল সেটটি নিয়ে চলে যায়। এ ঘটনার মুলহোতা কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়ার পুলেরঘাট বাজারে আসামি মকবুল হোসেন (৫৫) একটি সেলুনে চুল কাটার কাজের আড়ালে অপরাধ চক্রের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও পরিকল্পনায় জড়িত থাকেন। তিনি আরও জানান,গত ২৭ অক্টোবর আসামি মোঃ মকবুল হোসেন (৫৪) গ্রেফতারকৃত অন্যান্য আসামিদেরকে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার পুলেরঘাট বাজারে ডেকে এনে চালক হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। এরও আগে ২৯ অক্টোবর দুপুর আড়াইটায় পুলেরঘাট বাজারে আসামি মোঃ মকবুল হোসেন (৫৪), জাবেদ (২৪), কাজল মিয়া (৬১), শরীফ (৩১) গণ একত্রিত হয়ে প্রথমে হোসেনপুর এবং পরবর্তীতে সন্ধ্যা অনুমান ৭টায় গফরগাঁও জামতলা চৌরাস্তায় আসে। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আসামিরা যাত্রী-বেশে হোসেনপুর যাওয়ার কথা বলে রাত ৮টায় নাছির উদ্দিন (৪৫) এর চালিত অটোরিকশায় উঠে। রাত অনুমান পৌনে ৯টায় হোসেনপুর ব্রিজ এর পূর্ব ঢালে নির্জন জায়গায় পৌঁছে নাছির উদ্দিন (৪৬) এর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ রাস্তার দক্ষিণ পাশে ঝোপঝাড়ের আড়ালে রেখে দিয়ে অটোরিকশা ও নাছির উদ্দিনের এর ব্যবহৃত মোবাইল সেটটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আসামি মোঃ সোহেল মিয়া (২২) এর হেফাজত হতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। এ হত্যার মূল হোতা মকবুল। সে সেলুনে চুল কাটার আড়ালে ছিনতাই চক্রের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও পরিকল্পনা করত। একেক সময় একেকজনকে সঙ্গে নিয়ে কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় কখনো মারপিট, কখনো নেশাজাতীয় পানীয় পান করিয়ে অচেতন করে অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাই করে আসছিল। এভাবে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল মকবুল। আসামি মোঃ মকবুল হোসেন (৫৫) এর পিসি/পিআর-১। ময়মনসিংহ এর পাগলা থানার এফআইআর নং-১১, তারিখ- ১৬ মার্চ, ২০১৫, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০, ২। ময়মনসিংহ এর পাগলা থানার ,এফআইআর নং-১, তারিখ- ০১ আগস্ট, ২০১৩, ধারা- ১৯ ১৮৭৮সালের অস্ত্র আইন মামলা রয়েছে। আসামিদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলার সাথে ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবর্তী অপরাধ প্রবণ এলাকায় এধরনের অপরাধ-চক্র যাতে সংঘটিত হতে না পারে সেজন্য পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।