প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গুণগত পরিপূর্ণতা আনা সরকারের লক্ষ্য

প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১৩, ২০২২ , ১১:২৩ অপরাহ্ণ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সংগৃহীত চিত্র।

সাভার, ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গুণগত পরিপূর্ণতা আনা সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। মঙ্গলবার সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউটের ‘বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর ২০২২’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার বিশাল ভূমিকা রয়েছে। দুধে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও দেশে মাছ, মাংস ও ডিমে স্বয়ংসম্পূর্ণতাই শুধু না কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত উৎপাদন হচ্ছে। এক সময় আমাদের লক্ষ্য ছিল উন্নয়ন বৃদ্ধি করা, এখন আমাদের লক্ষ্য শুধু উন্নয়ন নয়, টেকসই উন্নয়ন। মাংস,ডিম, মাছ, দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিই শুধু নয়, এ খাতে গুণগত পরিপূর্ণতা আনা সরকারের লক্ষ্য। যেটা টেকসই উন্নয়নের একটা অংশে পরিণত হবে। বিএলআরআই উদ্ভাবিত বিএলআরআই মিট চিকেন-১ সুবর্ণ এবং লবণসহিষ্ণু বিএলআরআই ঘাস-৫ প্রযুক্তি দু’টি সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, দেশে মাংসের চাহিদা অভাবনীয়ভাবে বেড়েছে। এ জন্য সরকার গবেষণাগার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিএলআরআই মিট চিকেন-১ সুবর্ণ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের নতুন সৃষ্টি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এটি আমাদের বড় ধরনের সাফল্য। এ জাত দ্রুত বর্ধনশীল ও দেখতে অনেকটাই দেশি মুরগির মতো বিভিন্ন রংয়ের। এটি দেশি আবহাওয়ায় পালন উপযোগী ও অধিক মাংস উৎপাদনশীল একটি জাত। এর মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু। এ জাত সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এটি দেশীয় মুরগির চাহিদা মেটাতে পারবে। অপরদিকে লবণাক্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলে লবণসহিষ্ণু বিএলআরআই ঘাস-৫ চাষের মাধ্যমে এসব অঞ্চলের প্রাণিসম্পদের জন্য খাদ্যের যোগান সহজ হবে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ টি এম মোস্তফা কামাল ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিএলআরআই’র পরিচালক (গবেষণা) ড. নাসরিন সুলতানা। দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় ২০২১-২২ অর্থবছরে বিএলআরআই এর মোট ৭৩ টি গবেষণা কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিএলআরআই উদ্ভাবিত দেশি আবহাওয়ায় পালন উপযোগী ও অধিক মাংস উৎপাদনশীল বিএলআরআই মিট চিকেন-১ (সুবর্ণ) এবং লবণসহিষ্ণু বিএলআরআই ঘাস-৫ জাত দু’টি প্রযুক্তি আকারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।