নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৬, ২০২৩ , ২:০৮ অপরাহ্ণ

ইয়াকুব নবী ইমন, নিজস্ব প্রতিনিধি, নোয়াখালী, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে । এ পরিস্থিতিতে বিভাগটির রবিবারের পূর্বনির্ধারিত ‘ক্লাস টেস্ট’ পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। রবিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে শ্রেণীকক্ষ ও শিক্ষক-সংকট দূর করার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করে। শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণীকক্ষ সংকটের কারণে ঠিকমতো ক্লাস করা যায় না। পরীক্ষাগুলোও যথাসময়ে দেওয়া সম্ভব হয় না। এর মধ্যে আবার নতুন আরেকটি ব্যাচের ভর্তি-প্রক্রিয়া চলছে। নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হলে সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠবে। দীর্ঘদিন থেকে সমাজকর্ম বিভাগের শ্রেণীকক্ষের সংকট চলছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীরা বিভাগের শিক্ষকদের কাছে একাধিকবার ধরনা দিয়েও কোনও প্রতিকার পাননি। সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষকেরাও বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বারবার আলোচনা করেও কোনও ফল পাননি। এ কারণে শিক্ষকদের না জানিয়েই আজ সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে শহীদ মিনার চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিভাগের তিন ব্যাচে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৫০। ওই বিভাগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম ভবনের পঞ্চম তলার একটি কক্ষকে শ্রেণীকক্ষ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একটি কক্ষেই তিন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত সমস্যা চলছে। শিক্ষার্থীদের দাবি সমূহ হলো, নতুন শিক্ষক ও শ্রেণি কক্ষ বরাদ্দ দিতে হবে, লাইব্রেরিতে বই সংযুক্ত করতে হবে এবং অফিস ফ্যাসিলিটি বাড়াতে হবে। ১৫ দিনের মধ্যে দাবি কার্যকর না হলে ক্লাস বর্জনের পাশাপাশি ক্লাস পরীক্ষা ও বর্জন করা হবে। সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান চয়ন শিকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। শিক্ষার্থীরা তাকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে বিভাগে শ্রেণীকক্ষ ও শিক্ষক-সংকটের কথা তিনি স্বীকার করে বলেন, একটি শ্রেণীকক্ষ দিয়ে তিনটি ব্যাচের পাঠদান খুবই কষ্টকর। এ ছাড়া মাত্র চারজন শিক্ষক দিয়ে বর্তমানে তিনটি ব্যাচের ক্লাস ঠিকমতো নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছেন। শ্রেণীকক্ষ সংকট দূর করার জন্য সমাজকর্ম বিভাগসহ আরও কয়েকটি বিভাগের জন্য ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন ভবনে (একাডেমিক ভবন-৩) কয়েকটি কক্ষ অস্থায়ীভাবে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। দ্রুত ওই কক্ষগুলো শ্রেণীকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।