ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য আইপিভি ৬ ভার্সন অপরিহার্য

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৫, ২০২২ , ১০:০২ অপরাহ্ণ

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, সংগৃহীত চিত্র।

ঢাকা, ব্রডকাস্টিং নিউজ কর্পোরেশন: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য ইন্টারনেট প্রটোকল ভার্সন (আইপিভি)-৪ এর পরিবর্তে আইপিভি -৬ প্রচলন করা অপরিহার্য। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারসহ সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মন্ত্রী শনিবার ঢাকায় এক হোটেলে আইএসপিএবি আয়োজিত আইপিভি-৬ রাউটিং ডিপ্লয়মেন্ট শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে সুস্থ্য ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, লাইসেন্সহীন আইএসপিদের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে না পারলে এখাতের বিশৃঙ্খলা বন্ধ করা যাবে না। এ ব্যাপারে বিটিআরসি কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এখাতে যে কোন বিশৃঙ্খলা মেনে নেয়া যায় না। উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ের জন্য আইএসপি লাইসেন্স গ্রাহক চাহিদার অনুযায়ী ইস্যু করার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বিদ্যমান আইএসপি লাইসেন্স সমূহের পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে লাইসেন্স আপগ্রেডের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশ্বস্ত করেন। মন্ত্রী উচ্চগতির ব্রডব্রান্ড ইন্টারনেটকে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মহাসড়ক উল্লেখ করে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। দেশে বর্তমানে ৩৮৪০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ১৩ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ২০০৮ সালে মাত্র সাড়ে সাত জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যবহৃত হতো এবং ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো মাত্র ৮ লাখ। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ইন্টারনেটকে এক নম্বর জরুরি হাতিয়ার আখ্যায়িত করে ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশের এই অগ্রদূত বলেন, করোনাকালে প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশের মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহারে পিছিয়ে থাকে না। এমনকি প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে বসেও ইন্টারনেট ব্যবহার করে হাজার হাজার ডলার আয় করছে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে। ইন্টারনেটের বর্ধিত চাহিদা মেটাতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ খুবই তৎপর উল্লেখ করে বলেন, আমরা খুব শিগিগিরই তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে বাংলাদেশকে সংযুক্ত করতে যাচ্ছি। এর ফলে আমরা আরো ১৩২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পাব। এছাড়া পরবর্তীতে চতুর্থ সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে আমরা দেশকে সংযুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এর অতিরিক্ত আরো তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের জন্য লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।
মন্ত্রী সেমিনারে অংশ গ্রহণকারীদেরকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রায় দক্ষ সৈনিক হিসেবে নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে আসছেন এটিকে আমরা খুবই গুরুত্বের সাথে দেখছি। তিনি আইপিভি-৬ আপডেট করার জন্য দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার প্রয়োাজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান, অ্যাপনিক প্রশিক্ষক আবদুল আওয়াল এবং আইএসপিএবি সেক্রেটারি নাজমুল করিম ভূঞা বক্তৃতা করেন।